নারীদের প্রস্রাবে ইনফেকশন কেন হয়, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারীদের মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআই (ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন) একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। এতে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ এবং তলপেটে অস্বস্তি হতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ বারবার ফিরে আসে। বছরে তিনবার বা তার বেশি ইউটিআই হলে তাকে বারবার হওয়া সংক্রমণ বা রিকারেন্ট ইউটিআই বলা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কেন বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়?
মূত্রতন্ত্রের গঠনগত সমস্যা, পাথর, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় যোনিপথ ও মূত্রনালির স্বাভাবিক সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে। এ সময় সংক্রমণ বারবার হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে ব্যথা, ঘোলা প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা ইউটিআইয়ের লক্ষণ হতে পারে। জ্বর, কাঁপুনি, কোমর বা পিঠের এক পাশে ব্যথা হলে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বারবার সংক্রমণ ঠেকাতে করণীয়
১. প্রস্রাব চেপে রাখবেন না: প্রস্রাবের বেগ হলে টয়লেটে যান। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখা এড়িয়ে চলুন।
২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন। এতে নিয়মিত প্রস্রাব হয় এবং মূত্রতন্ত্র থেকে জীবাণু বের হতে সহায়তা করে।
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: টয়লেট ব্যবহারের পর সামনে থেকে পেছনের দিকে মুছুন। এতে পায়ুপথের জীবাণু মূত্রনালিতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
৪. কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ করুন: শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খান। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৫. শারীরিক সম্পর্কের পর প্রস্রাব করুন: শারীরিক সম্পর্কের আগে ও পরে স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। প্রয়োজনে পরে প্রস্রাব করতে পারেন।
৬. মেনোপজের পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: এ সময়ে বারবার ইউটিআই হলে চিকিৎসক যোনিপথে ব্যবহারের ইস্ট্রোজেন চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।
৭. নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না: সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিন। বারবার সংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রস্রাব পরীক্ষা ও কালচার প্রয়োজন হতে পারে। কিছু রোগীর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাও লাগতে পারে।
প্রস্রাবে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে জ্বর, কাঁপুনি, কোমরে ব্যথা বা বমি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

-6ad230772d93c.jpg)