শীতের আগে গিজার চালু করার প্রস্তুতি, দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক হোন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শীতের আগমনে গরম পানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়িতে গিজারের ব্যবহারও বেড়ে যায়। সকালে গোসল করা কিংবা দৈনন্দিন অন্যান্য কাজে গরম পানি পেতে অনেকেই এই যন্ত্রের ওপর নির্ভর করেন।
তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গিজার চালু করার আগে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা জরুরি। সামান্য অসতর্কতা থেকে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, গ্যাস লিক কিংবা বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে আসার মতো বিপদ ঘটতে পারে।
তাই শীত শুরু হওয়ার আগেই গিজারের অবস্থা পরীক্ষা করা, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং নিরাপদ ব্যবহারের নিয়মগুলো জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গিজার চালুর আগে যা করবেন
অনেকেই প্রয়োজনের সময় সরাসরি গিজারের সুইচ চালু করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে এর বৈদ্যুতিক তার, প্লাগ, পানির পাইপ কিংবা অন্যান্য যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
গিজার চালুর আগে এর বাইরের অংশ, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পাইপের অবস্থা ভালোভাবে দেখে নিন। তার ছেঁড়া, পোড়া দাগ, অস্বাভাবিক গন্ধ কিংবা পানির লিকেজ দেখা গেলে যন্ত্রটি চালু করবেন না। ত্রুটি থাকলে দক্ষ প্রযুক্তিবিদের সাহায্য নিন।
গিজারের ভেতরের যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করার প্রয়োজন হলে নিজে খুলে মেরামতের চেষ্টা না করাই ভালো। দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করানো হলে শীতের শুরুতেই পেশাদার কারিগর দিয়ে যন্ত্রটি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া নিরাপদ।
নিয়মিত সার্ভিসিং কেন প্রয়োজন?
গিজার নিরাপদে ব্যবহার করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিকল্প নেই। পানির সংযোগ, পাইপ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার জন্য থাকা যন্ত্রাংশগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বৈদ্যুতিক গিজারের ক্ষেত্রে তার, আর্থিং এবং সার্কিট ব্রেকার পরীক্ষা করা জরুরি। অন্যদিকে, গ্যাসচালিত গিজারের বার্নার, গ্যাসের পাইপ, সংযোগ এবং ধোঁয়া নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করাতে হবে।
কোনো ধরনের লিকেজ বা যান্ত্রিক ত্রুটি পাওয়া গেলে সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গিজার ব্যবহার করা উচিত নয়।
বৈদ্যুতিক না গ্যাসচালিত গিজার, কোনটিতে ঝুঁকি বেশি?
দুই ধরনের গিজারই সঠিকভাবে স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ব্যবহার করা যায়। তবে এগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকি এক নয়।
বৈদ্যুতিক গিজার: ত্রুটিপূর্ণ তার, অপর্যাপ্ত আর্থিং কিংবা ভুল বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই যন্ত্রটি সঠিকভাবে স্থাপন করা, উপযুক্ত সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু এমসিবি থাকলেই সব ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
গ্যাসচালিত গিজার: গ্যাস লিক, আগুন লাগা এবং কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কার্বন মনোক্সাইড বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস। গ্যাসের অসম্পূর্ণ দহন কিংবা ত্রুটিপূর্ণ নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে এটি ঘরে জমে যেতে পারে। এর সংস্পর্শে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
বিশেষ করে ছোট ও বদ্ধ বাথরুমে গ্যাস গিজার স্থাপন বিপজ্জনক হতে পারে। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত স্থানে যন্ত্রটি বসানো, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা এবং দহনের ধোঁয়া নিরাপদে বাইরে বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
গিজার ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানবেন
ভেজা হাতে সুইচ ধরবেন না: বৈদ্যুতিক সংযোগ স্পর্শ করার আগে হাত শুকনো রাখুন।
অস্বাভাবিক লক্ষণ উপেক্ষা করবেন না: পোড়া গন্ধ, অস্বাভাবিক শব্দ, অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা পানি বা গ্যাস লিকের লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
গ্যাসের গন্ধ পেলে সতর্ক হোন: আগুন জ্বালাবেন না এবং কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করবেন না। নিরাপদে বাইরে চলে যান এবং বাইরে থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভব হলে তা করুন। এরপর জরুরি সহায়তা নিন।
নিজে মেরামতের চেষ্টা করবেন না: বৈদ্যুতিক বা গ্যাসের সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলে দক্ষ প্রযুক্তিবিদের সাহায্য নিন।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করান: প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী গিজার ও এর নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করান।
নিরাপদ গিজার ব্যবহারে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন
শীতের শুরুতে গিজার চালু করার আগে শুধু সুইচ বা বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করলেই যথেষ্ট নয়। যন্ত্রটির সার্বিক অবস্থা, সঠিক ইনস্টলেশন, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সামান্য সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ গিজার ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই শীতের পুরো মৌসুমে নিশ্চিন্তে গরম পানি ব্যবহার করতে আগেভাগেই গিজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

-6ad352feeff28.jpg)
