Logo
Logo
×

Advertisement

ডাক্তার আছেন

নারীদের বন্ধ্যত্বের ৬টি সম্ভাব্য লক্ষণ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

নারীদের বন্ধ্যত্বের ৬টি সম্ভাব্য লক্ষণ

Advertisement

বিশ্বজুড়ে বহু নারী বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রজননক্ষম বয়সের প্রতি ছয়জনের মধ্যে প্রায় একজন জীবনের কোনো না কোনো সময় বন্ধ্যত্বের সমস্যার সম্মুখীন হন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাধারণত নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও ১২ মাসের মধ্যে গর্ভধারণ না হওয়াকে বন্ধ্যত্ব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং প্রজননস্বাস্থ্যের ইতিহাস অনুযায়ী চিকিৎসকেরা এর আগেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), এন্ডোমেট্রিওসিস, জরায়ু বা ফ্যালোপিয়ান টিউবের সমস্যা এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে বন্ধ্যত্বের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ সব নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায় না। অনেকের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াও গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ ও শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকলে প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।

নারীদের বন্ধ্যত্বের ৬টি সম্ভাব্য লক্ষণ

১. অনিয়মিত মাসিক বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া

মাসিক চক্রের অনিয়ম ডিম্বস্ফোটনের সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। সাধারণত মাসিক চক্র ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে। তবে ব্যক্তিভেদে কিছুটা তারতম্য স্বাভাবিক।

মাসিকের ব্যবধান বারবার অস্বাভাবিক হওয়া, দীর্ঘদিন মাসিক না হওয়া কিংবা বছরে খুব কমবার মাসিক হওয়ার পেছনে হরমোনজনিত সমস্যা থাকতে পারে।

সম্ভাব্য কারণ: পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), থাইরয়েডের সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া এবং অন্যান্য হরমোনজনিত জটিলতা।

ডিম্বস্ফোটন নিয়মিত না হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমতে পারে। তাই মাসিক দীর্ঘদিন অনিয়মিত থাকলে বা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. সহবাসের সময় বা পরে ব্যথা অনুভব করা

সহবাসের সময় বা পরে বারবার ব্যথা হওয়াকে স্বাভাবিক বলে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ব্যথা তীব্র হলে বা এর সঙ্গে মাসিকের সময় অতিরিক্ত ব্যথা থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

সম্ভাব্য কারণ: এন্ডোমেট্রিওসিস, পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি), জরায়ুর কিছু সমস্যা কিংবা প্রজনন অঙ্গের অন্যান্য জটিলতা।

এন্ডোমেট্রিওসিস ও প্রজনন অঙ্গের সংক্রমণ কিছু ক্ষেত্রে গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে সহবাসে ব্যথা হলেই বন্ধ্যত্ব রয়েছে, এমন নয়। সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি।

৩. হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ

হরমোনের পরিবর্তন নারীর মাসিক চক্র, ডিম্বস্ফোটন ও প্রজননক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু শারীরিক পরিবর্তন হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানো।

ব্রণ বেড়ে যাওয়া।

অস্বাভাবিকভাবে ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া।

মাসিক অনিয়মিত হওয়া।

মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া।

সম্ভাব্য কারণ: পিসিওএস, থাইরয়েডের সমস্যা এবং অন্যান্য হরমোনজনিত অসুস্থতা।

বিশেষ করে অনিয়মিত মাসিকের সঙ্গে অতিরিক্ত লোম গজানো বা ব্রণের সমস্যা থাকলে পিসিওএসের সম্ভাবনা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করা যায় না।

৪. তলপেটে বা শ্রোণি অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

তলপেট বা শ্রোণি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ব্যথা থাকা, মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা অনুভব করা কিংবা ব্যথার কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়া প্রজনন অঙ্গের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

সম্ভাব্য কারণ: এন্ডোমেট্রিওসিস, জরায়ুর ফাইব্রয়েড, পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ এবং অন্যান্য স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা।

এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে প্রজনন অঙ্গের আশপাশে প্রদাহ বা আঠালো টিস্যু তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, ফ্যালোপিয়ান টিউবে সংক্রমণজনিত ক্ষতি হলে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

তবে সব ধরনের তলপেটের ব্যথা বন্ধ্যত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, ক্রমশ বাড়লে কিংবা জ্বরের সঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৫. অতিরিক্ত ওজন বা অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া

শরীরের ওজন ও পুষ্টিগত অবস্থা হরমোনের ভারসাম্য এবং ডিম্বস্ফোটনকে প্রভাবিত করতে পারে। অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে পিসিওএস ও ডিম্বস্ফোটনের সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। আবার অতিরিক্ত কম ওজন, অপুষ্টি বা কঠোর ব্যায়ামের কারণে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তির ঘাটতি তৈরি হলেও মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।

সম্ভাব্য প্রভাব: মাসিক চক্রে পরিবর্তন, ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হওয়া এবং গর্ভধারণে অসুবিধা।

তবে ওজন বেশি হলেই বন্ধ্যত্ব হবে, কিংবা রোগা হলেই প্রজননক্ষমতা কমে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। ওজনের পরিবর্তনের সঙ্গে মাসিকের অনিয়ম দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৬. অস্বাভাবিক যোনিস্রাব বা বারবার সংক্রমণ

যোনিস্রাবের পরিমাণ ও ধরনে মাসিক চক্র অনুযায়ী স্বাভাবিক পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু স্রাবে দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক রং, চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা তলপেটে ব্যথা থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত।

সম্ভাব্য কারণ: ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস, যৌনবাহিত সংক্রমণ এবং প্রজনন অঙ্গের অন্যান্য সংক্রমণ।

বিশেষ করে ক্ল্যামাইডিয়া বা গনোরিয়ার মতো কিছু যৌনবাহিত সংক্রমণ চিকিৎসা না করালে পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ সৃষ্টি করতে পারে। এতে ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গর্ভধারণের সমস্যা বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে সাধারণ যোনিস্রাব বা সব ধরনের যোনিপথের সংক্রমণ বন্ধ্যত্বের কারণ নয়। অস্বাভাবিক স্রাব দেখা দিলে পরীক্ষা করিয়ে কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

গর্ভধারণে সমস্যা হলে কত দিন অপেক্ষা করা উচিত, তা নারীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

৩৫ বছরের কম বয়স: নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও ১২ মাসে গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৩৫ থেকে ৪০ বছর: ছয় মাস চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।

৪০ বছরের বেশি: গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বয়স নির্বিশেষে: মাসিক বন্ধ থাকা, দীর্ঘদিন অনিয়মিত মাসিক, এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফ্যালোপিয়ান টিউবের সমস্যার ইতিহাস থাকলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী মাসিক ও প্রজননস্বাস্থ্যের ইতিহাস পর্যালোচনা, শারীরিক পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম এবং হরমোন পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনে ফ্যালোপিয়ান টিউবের অবস্থা ও সঙ্গীর শুক্রাণুর মানও পরীক্ষা করা হয়।

বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ ও প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে করণীয়

সব ধরনের বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে কিছু অভ্যাস প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

সুষম খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।

ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরমোন বা প্রজননক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ গ্রহণ করবেন না।

যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ যৌনাচরণ অনুসরণ করুন।

মাসিকের তারিখ, ব্যথা ও অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

গর্ভধারণে সমস্যা হলে নারী ও পুরুষ উভয়েরই প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করান।

মনে রাখবেন

অনিয়মিত মাসিক, সহবাসে ব্যথা, হরমোনের পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক স্রাব মানেই বন্ধ্যত্ব নয়। আবার কোনো লক্ষণ না থাকলেও গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। তাই অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া, সমস্যার কারণ নির্ণয় করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করাই সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন (এএসআরএম) এবং আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস (এসিওজি)।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

পিরিয়ডের সঙ্গে জয়েন্টে ব্যথার কী সম্পর্ক?

পিরিয়ডের সঙ্গে জয়েন্টে ব্যথার কী সম্পর্ক?

সৈকতে সাঁতার কাটছিলেন, হঠাৎ হাঙ্গরের আক্রমণে প্রাণ গেল নারীর

সৈকতে সাঁতার কাটছিলেন, হঠাৎ হাঙ্গরের আক্রমণে প্রাণ গেল নারীর

নারী কেন পুরুষের চেয়ে বেশি কথা বলে? বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ তথ্য

নারী কেন পুরুষের চেয়ে বেশি কথা বলে? বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ তথ্য

সন্তান নিতে চাইলে এই ৪ বদভ্যাস আজই ত্যাগ করুন

সন্তান নিতে চাইলে এই ৪ বদভ্যাস আজই ত্যাগ করুন

৫২ বছরে মা হচ্ছেন হিলারি, ৫০ পেরিয়ে গর্ভধারণ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

৫২ বছরে মা হচ্ছেন হিলারি, ৫০ পেরিয়ে গর্ভধারণ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় কি ব্যায়াম বন্ধ করতে হয়?

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় কি ব্যায়াম বন্ধ করতে হয়?

আরও পড়ুন

নারীদের বন্ধ্যত্বের ৬টি সম্ভাব্য লক্ষণ

নারীদের বন্ধ্যত্বের ৬টি সম্ভাব্য লক্ষণ

লিভার ক্যান্সার কেন হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে; এটি কি প্রতিরোধ করা যায়?

লিভার ক্যান্সার কেন হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে; এটি কি প্রতিরোধ করা যায়?

প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা কিডনির সমস্যা নাতো

প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা কিডনির সমস্যা নাতো

ঘনঘন মাথা ব্যথার কারণ কী?

ঘনঘন মাথা ব্যথার কারণ কী?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম