ত্বক তারুণ্য ধরে রাখতে খাবেন যেসব খাবার, জানুন ৩ উপায়
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা ও স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে শুধু প্রসাধনী ব্যবহার নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও ত্বকের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রঙিন ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ও গাঁজানো খাবার ত্বকের গঠন ভালো রাখতে এবং বয়সের ছাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে ত্বকের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক কয়েক ধরনের খাবারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ১ নভেম্বর।
১. রঙিন ফল ও শাকসবজি
ত্বক সুস্থ রাখতে উদ্ভিদজাত খাবার সমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রঙিন ফল ও শাকসবজিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে দূষণ ও সূর্যের আলোর কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
গাজর, টমেটো ও বিভিন্ন রঙের মরিচে ক্যারোটিনয়েড নামের উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে লুটেইন, লাইকোপেন ও বিটা-ক্যারোটিন উল্লেখযোগ্য। এসব উপাদান ত্বকে জমা হয়ে অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
জার্মানির ফ্রেডরিখ শিলার ইউনিভার্সিটি জেনার খাদ্য রসায়নের অধ্যাপক ফলকার বোহমের মতে, নিয়মিত ক্যারোটিনয়েডসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ত্বকে সারা বছর কিছুটা ভিত্তিগত সুরক্ষা তৈরি হতে পারে। তবে এটি সানস্ক্রিনের বিকল্প নয়।
এ ছাড়া বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ত্বকের কোষের বৃদ্ধি এবং সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারোটিনয়েড ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
টমেটো বা গাজরের সঙ্গে অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি খেলে শরীর ক্যারোটিনয়েড সহজে শোষণ করতে পারে।
আমও হতে পারে উপকারী: ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাসের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রজোনিবৃত্তির পর নারীরা ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে চার দিন ৮৫ গ্রাম করে আম খাওয়ায় তাদের ত্বকের বিদ্যমান বলিরেখার আকার এবং নতুন বলিরেখার সংখ্যা কমেছে।
গবেষকদের ধারণা, আমে থাকা ক্যারোটিনয়েড, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ম্যাঙ্গিফেরিন এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গবেষণায় প্রতিদিন প্রায় ২৫০ গ্রাম আম খাওয়ার ক্ষেত্রে বলিরেখা বেড়ে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আমের প্রাকৃতিক চিনির কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা।
আম ও লেবুজাতীয় ফলে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা ও কালচে দাগ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
২. স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার
বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার ত্বকের জন্য উপকারী। এসব খাবারে থাকা ভিটামিন ই কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। ভিটামিন ই-এর ঘাটতি হলে ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং ক্ষত শুকাতেও বেশি সময় লাগতে পারে।
কাঠবাদাম, হ্যাজেলনাট, পাইন নাট ও বিভিন্ন বীজের তেলে ভিটামিন ই পাওয়া যায়। বাদামে থাকা ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের সুরক্ষাস্তর শক্তিশালী করতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
অন্যদিকে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস তৈলাক্ত মাছ। স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকেরেলের মতো মাছে এ উপাদান পাওয়া যায়।
ছোট পরিসরের কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ খেলে সূর্যের প্রতি ত্বকের সংবেদনশীলতা কমতে পারে। পাশাপাশি এটি প্রদাহ কমাতে এবং ত্বকের বিদ্যমান কোলাজেন সংরক্ষণে সহায়তা করতে পারে।
একটি নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ সপ্তাহ ধরে নাশতা হিসেবে বাদাম খাওয়া নারীদের মুখের বলিরেখা অন্য ধরনের নাশতা গ্রহণকারীদের তুলনায় কম দৃশ্যমান ছিল।
৩. অন্ত্রের জন্য উপকারী খাবার
ত্বকের সুস্থতার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকেরা এই সম্পর্ককে ‘গাট-স্কিন অ্যাক্সিস’ বা অন্ত্র-ত্বক সংযোগ বলে থাকেন।
বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম, বীজ, ডাল ও গোটা শস্য খেলে অন্ত্রের উপকারী অণুজীবগুলো পুষ্টি পায়। এসব অণুজীব এমন কিছু যৌগ তৈরি করে, যেগুলোর প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব উপাদান ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্ত্রের উপকারী অণুজীব রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেও সহায়তা করে। এর ফলে সোরিয়াসিসের মতো কিছু চর্মরোগের ঝুঁকি ও উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে গাঁজানো খাবার বিশেষভাবে উপকারী। দই, কিমচি, সাওয়ারক্রাউট ও কম্বুচার মতো খাবার অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের জন্য সহায়ক হতে পারে।
সানস্ক্রিন জরুরি?
ত্বকের বয়স বাড়ার পেছনে শুধু বয়স নয়, পরিবেশগত বিভিন্ন কারণও দায়ী। বায়ুদূষণ, ওজোন, জলবায়ু পরিবর্তন, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা ত্বকের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণও কমতে থাকে। কোলাজেন এমন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের গঠন ও দৃঢ়তা বজায় রাখে।
লাইবনিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্টাল মেডিসিনের চর্মরোগবিদ্যার অধ্যাপক জ্যঁ ক্রুটম্যানের মতে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির পাশাপাশি দৃশ্যমান আলো ও অবলোহিত বিকিরণও ত্বকের বার্ধক্যে ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারও জরুরি। গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে সহায়ক হলেও এটি বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন পুরোপুরি ঠেকাতে পারে না।
সূত্র: বিবিসি
