Logo
Logo
×

Advertisement

ডাক্তার আছেন

ভিটামিন ডির ঘাটতির লক্ষণ, এটি কি শুধু হাড় গঠনেই ভূমিকা রাখে?

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

ভিটামিন ডির ঘাটতির লক্ষণ, এটি কি শুধু হাড় গঠনেই ভূমিকা রাখে?

Advertisement

ভিটামিন ডি বলতেই আমরা সাধারণত হাড়ের সুস্থতার কথা ভাবি। তবে হাড় মজবুত রাখার পাশাপাশি শরীরের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রয়েছে এই ভিটামিনের। এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা, প্রজননস্বাস্থ্য, ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, পেশির শক্তি এবং শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।

শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের জন্যই শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকা জরুরি। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের সুস্থতা ধরে রাখতে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

এ ছাড়া যেসব নারী পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সমস্যায় ভুগছেন কিংবা সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্যও ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে রক্তে ভিটামিন ডির মাত্রা না জেনে নিজের ইচ্ছেমতো সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়। 

পুষ্টিবিদ রাশি চৌধুরীর পরামর্শ, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টের ধরন ও মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

রক্তে ভিটামিন ডির মাত্রা কত হলে কী বোঝায়?

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে পুষ্টিবিদ রাশি চৌধুরী রক্তে ভিটামিন ডির বিভিন্ন মাত্রা এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক তুলে ধরেছেন।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রক্তে ভিটামিন ডির মাত্রা ২০-এর নিচে থাকলে তা ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। মাত্রা ১০-এর নিচে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বিশেষভাবে জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বেশি মাত্রার চিকিৎসামূলক ডোজ দিতে পারেন।

মাত্রা ২০ থেকে ৪০-এর মধ্যে থাকলেও তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নাও থাকতে পারে। এ সময় কারও কারও মধ্যে ক্লান্তি, চুল পড়া, মন খারাপ থাকা এবং ওজন কমাতে অসুবিধার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মাত্রা ৪০ থেকে ৬০-এর মধ্যে থাকলে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। আর ৬০ থেকে ৭০-এর মধ্যে থাকলে তা ভালো মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে, ভিটামিন ডির মাত্রা ৮০-এর বেশি হলে অপ্রয়োজনে তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। কারণ, শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি জমলে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তবে ভিটামিন ডির আদর্শ মাত্রা ও সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দেখে নিজে নিজে ওষুধের মাত্রা ঠিক করা উচিত নয়।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন ভিটামিন ডির ঘাটতি 

ভিটামিন ডির অভাব শরীরের বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ঘাটতি হলে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলো হলো—

• সব সময় ক্লান্তি লাগা: পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও শরীর দুর্বল বা ক্লান্ত লাগতে পারে।

• কোমরের নিচের দিকে ব্যথা: ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। এর ঘাটতি হাড়ের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

• পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা: শরীরে ভিটামিন ডির মাত্রা কম থাকলে পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।

• মন খারাপ বা উদ্বেগ: ভিটামিন ডির ঘাটতির সঙ্গে মেজাজের পরিবর্তন ও উদ্বেগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

• ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া: আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত সারতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।

• চুল পড়া: শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে চুল পড়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে শুধু ভিটামিন ডির অভাবই এর একমাত্র কারণ নয়।

ভিটামিন ডির মাত্রা ঠিক রাখা কেন জরুরি

হাড় ও পেশি সুস্থ রাখতে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকা প্রয়োজন। তবে এর ঘাটতি যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণও শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তাই নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে রক্ত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

সূত্র: এনডিটিভি


Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ভিটামিন ডির ঘাটতির লক্ষণ, এটি কি শুধু হাড় গঠনেই ভূমিকা রাখে?

ভিটামিন ডির ঘাটতির লক্ষণ, এটি কি শুধু হাড় গঠনেই ভূমিকা রাখে?

মিলনের পর মূত্রনালীর সংক্রমণ, ভুলেও যেসব কাজ করবেন না

মিলনের পর মূত্রনালীর সংক্রমণ, ভুলেও যেসব কাজ করবেন না

ডেঙ্গু জ্বর কমার পরই বাড়তে পারে বিপদ, যেসব লক্ষণে সতর্কতা জরুরি

ডেঙ্গু জ্বর কমার পরই বাড়তে পারে বিপদ, যেসব লক্ষণে সতর্কতা জরুরি

এনাল ফিশার হলেই কি অস্ত্রোপচার? জানুন লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

এনাল ফিশার হলেই কি অস্ত্রোপচার? জানুন লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম