পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক ও পেপারলেস করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
দেশের পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক (ইনস্টিটিউশনাল) ভিত্তিতে রূপান্তর এবং সম্পূর্ণ পেপারলেস করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিক (ইনস্টিটিউশনাল) ভিত্তিতে রূপান্তর এবং সম্পূর্ণ পেপারলেস করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে ঐতিহ্যগত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক, প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা দেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আইসিবির সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের জন্য ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইসিবি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাজারভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে মূলধন বাজারে যুক্ত করে জাতীয় অর্থনীতিতে বৃহৎ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে খুচরা বিনিয়োগকারীনির্ভর। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পুঁজিবাজার মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই দেশের বাজারকে রিটেইলভিত্তিক অবস্থা থেকে ইনস্টিটিউশনালভিত্তিক বাজারে রূপান্তরে আইসিবিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ আর্থিক খাতের শীর্ষ পদগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের নীতি অনুযায়ী কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হবে না।
পুঁজিবাজারের ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ এবং আইসিবিসহ পুরো পুঁজিবাজার ব্যবস্থায় শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়েছে। ‘নো পেপার ট্রানজ্যাকশন, নাথিং পেপার’ নীতির আওতায় ভবিষ্যতে লিস্টিং আবেদন, অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেট ফান্ড, ক্লাইমেট ফান্ডিং এবং ডেরিভেটিভস পণ্যের মাধ্যমে দেশে বৈশ্বিক মূলধন প্রবাহের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তিনি দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাই স্ট্রিট ব্যাংকনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক চর্চার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অতীত অভিজ্ঞতা ও চলমান পুনর্গঠনের মাধ্যমে আইসিবি একটি আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
আইসিবির চেয়ারম্যান নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

