সুতায় ব্যাংক গ্যারান্টি বৈধ বাণিজ্য ব্যাহত করবে না: বিটিএমএ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর লগো। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে ১০৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে আমদানির যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বৈধ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বরং এ সিদ্ধান্তের ফলে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ থাকা স্পিনিং ও উইভিং মিল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসংস্থান সুরক্ষার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। এ ব্যবস্থায় আমদানিকারকদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সংকুচিত হওয়ারও আশঙ্কা নেই।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিটিএমএ।
বিজ্ঞপ্তিতে বিটিএমএ জানায়, কটন সুতার বন্ড সুবিধাসংক্রান্ত যেকোনো নীতি মূল্যায়নে প্রাইমারি টেক্সটাইল, বিশেষত স্পিনিং শিল্পের ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল প্রাপ্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এতে আরও বলা হয়, বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের অর্থ সুতা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়, কিংবা নতুন কোনো শুল্ক আরোপও নয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট আদেশে নতুন কোনো শুল্ক বা কর আরোপ না করে শুধু প্রযোজ্য শুল্ক-কর সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিটিএমএ জানায়, সাধারণত ব্যাংকগুলো নন-ফান্ডেড এক্সপোজার থেকে ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করে। ফলে আমদানিকারকের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সংকুচিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য বৈধ আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত করা নয়; বরং সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং দেশীয় ও আমদানিকৃত সুতার মধ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সুরক্ষা
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের স্পিনিং শিল্পে উল্লেখযোগ্য দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিস্তৃত উৎপাদন অবকাঠামো ও বিপুল কর্মসংস্থান জড়িত। এ শিল্পের উৎপাদন ও আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা গেলে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ স্পিনিং ও উইভিং মিল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। এতে বিদ্যমান কর্মসংস্থান সুরক্ষার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনরুদ্ধার এবং খেলাপি ঋণের চাপ কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সুতরাং এ বিষয়ের সঙ্গে শুধু একটি শিল্প খাতের স্বার্থ নয়, বিনিয়োগ সুরক্ষা, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থও সম্পৃক্ত।
ব্যাংক গ্যারান্টিতে রাজস্ব সুরক্ষা ও জবাবদিহি
বিটিএমএ জানায়, ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক আমদানি ব্যবস্থায় আমদানিকৃত সুতা অননুমোদিত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে রপ্তানির প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় দলিল দাখিল না করা হলে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী গ্যারান্টি নগদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এতে অননুমোদিতভাবে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির ঝুঁকি হ্রাস এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইভাবে, রপ্তানি সম্পন্ন হওয়া এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের তথ্য যাচাই সাপেক্ষে গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার হবে। যথাযথ ডিজিটাল নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে বৈধ রপ্তানি কার্যক্রম সচল রেখেই অপব্যবহার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সুতার মূল্য ও ক্রয়াদেশ স্থানান্তর নিয়ে বক্তব্য
দেশীয় সুতার মূল্যবৃদ্ধি কিংবা ভারত, মিসরসহ প্রতিযোগী দেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থানান্তরসংক্রান্ত দাবিগুলো নির্ভরযোগ্য ও তুলনাযোগ্য তথ্য দিয়ে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করে বিটিএমএ।
সংগঠনটি জানায়, দেশীয় ও আমদানিকৃত সমজাতীয় সুতার প্রকৃত ক্রয় ব্যয় নির্ধারণে পণ্যের মান ও বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পরিবহণ ব্যয়, প্রযোজ্য শুল্ক-কর, ব্যাংক চার্জ, অর্থায়ন ব্যয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বিবেচনায় আনতে হবে।
আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু সুতার মূল্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। উৎপাদনশীলতা, মান, প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক কারখানার সক্ষমতা, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো নীতিগত সিদ্ধান্তকে ক্রয়াদেশ স্থানান্তরের একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন হবে না।
বিটিএমএ আরও জানায়, দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল, বিশেষত স্পিনিং শিল্পের বিনিয়োগ ও সক্ষমতা সুরক্ষা এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য সময়মতো প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে কাঁচামাল সরবরাহ—এ দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়। ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং কার্যকর নজরদারি উভয় খাতের টেকসই বিকাশে সহায়ক হতে পারে।
সংগঠনটির মতে, দেশীয় স্পিনিং ও তৈরি পোশাকশিল্প একে অপরের পরিপূরক। উভয় শিল্পের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি সুদৃঢ় করতে পারে।
বিটিএমএর দুই দাবি
দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, রাজস্ব সুরক্ষা এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিবেচনার জন্য দুটি দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ।
প্রথমত, বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক আমদানি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় মূল্য সংযোজনের বাস্তবসম্মত নীতিকাঠামো গ্রহণ করা। এ ক্ষেত্রে নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের বিষয়টি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধান, রুলস অব অরিজিন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে টু-স্টেজ ট্রান্সফরমেশনসংক্রান্ত শর্ত বিবেচনায় নিয়ে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের জন্য পর্যায়ক্রমে ন্যূনতম ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন অর্জনের উপযোগী নীতিকাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে বিটিএমএ।

