আয়কর রিটার্নে যেসব ভুল করলেই বিপদ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেওয়া, আয়-সম্পদের বিবরণ গোপন করা কিংবা নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে বিপাকে পড়তে পারেন করদাতারা। এসব কারণে অতিরিক্ত কর, জরিমানা ও অডিটের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়, ব্যয়, সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থবছরের বিভিন্ন প্রান্তিকে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতাদের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুসারে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা, যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাওয়া যাবে।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। এসব বিধান চূড়ান্ত আইন অনুযায়ী কার্যকর হবে।
এদিকে, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত কর কাঠামোয় করের হার পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হয়েছে। এতে করমুক্ত আয়সীমার পরবর্তী প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ করের ধাপ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী করযোগ্য আয়ের বিভিন্ন ধাপে ১০, ১৫, ২০, ২৫ ও ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
রিটার্নে যেসব ভুল বিপদ ডেকে আনতে পারে
অনেক করদাতা আয়কর আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় কম্পিউটার বা ফটোকপির দোকানের সহায়তায় রিটার্ন তৈরি করেন। এতে আয়, সম্পদ কিংবা বিনিয়োগের তথ্যে ভুল থেকে যেতে পারে। বেতন-ভাতা ছাড়াও বাড়িভাড়া, ব্যবসা বা অন্যান্য উৎসের আয় গোপন করা, সম্পদের সঠিক বিবরণ না দেওয়া এবং প্রমাণ ছাড়া করছাড় দাবি করা বড় ধরনের ভুল।
রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অসংগতি থাকলে কর কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই বা অডিটের মুখে পড়তে পারেন করদাতা। ভুল তথ্য প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কর, জরিমানা কিংবা আইনগত ব্যবস্থার ঝুঁকি রয়েছে।
তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়ের হিসাব, সম্পদের বিবরণ, বিনিয়োগের নথি ও কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
সূত্র: শিক্ষক বাতায়ন

