দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সম্পর্ক অটুট রাখার রহস্য ফাঁস করলেন তাপসী পান্নু
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৩ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। এর মধ্যেই গড়িয়েছে তিন বছরের দাম্পত্য জীবন। সময়ের ব্যবধানে অনেক দিন অভিনেত্রী তাপসী পান্নু ও সাবেক ড্যানিশ ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় মাথিয়াস বোরের সংসার। এ যাবৎকাল সম্পর্ক নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় না অভিনেত্রীকে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তকে নিয়মিত প্রকাশ্যে আনার পথে হাঁটেননি তিনি। তবে সম্প্রতি নয়নদীপ রক্ষিতের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ১৩ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক এবং তাকে টিকিয়ে রাখার সিক্রেট ফাঁস করেছেন তাপসী পান্নু।
তবে কেন আজকের দিনে সম্পর্ক আরও কঠিন মনে হচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর অভিনেত্রীর কাছেও নেই। তবে অনুমান— হয়তো মানুষের প্রত্যাশা বদলেছে অথবা জীবনের অগ্রাধিকারে পরিবর্তন এসেছে। তবে তার নিজের অভিজ্ঞতায় দীর্ঘ সম্পর্কের ভিত তৈরি হয় নিরাপত্তা, সম্মান, বোঝাপড়া এবং তারপর ভালোবাসা মধ্য দিয়ে।
তাপসীর এ কথা থেকেই বোঝা যায়, প্রেমে সম্মান কতটা জরুরি। মনে রাখবেন, ভালোবাসায় শুধু আবেগ কিংবা আকর্ষণ থাকলেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না, প্রয়োজন পরস্পরের প্রতি সম্মান। সঙ্গীর মতামত, ব্যক্তিস্বাধীনতা, পছন্দ-অপছন্দ এবং সীমারেখাকেও গুরুত্ব দিলে সম্পর্কে নিরাপত্তা ও বিশ্বাস তৈরি হয়। মতবিরোধ হলেও একে অন্যকে ছোট না করে কথা বলা সম্ভব হয়।
আর সম্মান থাকলে দুজনেই নিজেদের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ পান এবং সম্পর্কের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বদলে তৈরি হয় পারস্পরিক বোঝাপড়া। তাই সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো— পারস্পরিক সম্মান।
তাপসী পান্নু বলেন, তার এবং মাথিয়াসের সম্পর্কের ভিত্তি শুধু ভালোবাসা নয়। একে অন্যের সঙ্গে নিরাপদ বোধ করা এবং পারস্পরিক সম্মানই তাদের সম্পর্ককে এত বছর ধরে শক্ত রেখেছে।
তিনি বলেন, দুজন মানুষের মধ্যে গভীর শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে কোনো সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। আমার কাছে ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারও আগে আসে পরস্পরের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তার অনুভূতি।
বলিউডে আত্মপ্রকাশের বছরেই মাথিয়াসের সঙ্গে তার সম্পর্কের শুরু বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এত বছর পরও তাকে নিজের জীবনের সঙ্গে মানানসই মানুষ হিসেবেই দেখেন তিনি। নিজে যে একটুও ভুল করেননি, সে কথাও খোলাসা করেন তাপসী পান্নু।
তিনি বলেন, মাথিয়াসকে বেছে নেওয়া তার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত। পরিবারকে তিনি ঈশ্বরের দেওয়া উপহার হিসেবে দেখেন, আর পেশাগত জীবনও পুরোপুরি পরিকল্পিত ভাবে বেছে নেননি। কিন্তু জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়াটা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি গর্বিত বলেও জানান এ অভিনেত্রী।
তাপসী পান্নু বলেন, ‘বর্তমান সময়ে দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া অনেকের কাছেই কঠিন হয়ে উঠছে।’ শুধু কোনো একটি প্রজন্ম নয়, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তার সহকর্মীদের মধ্যেও অনেককে তিনি দেখেছেন সত্যিকারের ভালোবাসা, মানসিক সমর্থন এবং কোম্পানিয়নশিপ খুঁজতে। তার মতে, মানুষ যে পেশাতেই থাকুক না কেন, প্রত্যেকেরই ভালোবাসা, পাশে থাকার মানুষ এবং সঙ্গ প্রয়োজন। কিন্তু সেই সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া ক্রমশ কঠিন হচ্ছে।
