নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রীর করা হেনস্থার অভিযোগ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল যেভাবে
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
তনুশ্রী দত্ত ও নানা পাটেকর। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বলিউডে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন তনুশ্রী দত্ত। প্রায় দশ বছর আগের একটি ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটি ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি গানের শুটিংকে ঘিরে।
তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল, গানটিতে নানা পাটেকরের থাকার কথাই ছিল না। কিন্তু তিনি সেটে এসে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) এই বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুর পরে সেই ঘটনাই আরও এক বার আলোচনায় এসেছে।
তনুশ্রীর দাবি ছিল, তাকে একক নাচের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অশ্লীল বা অস্বস্তিকর কোনো নাচের ধাপে তিনি যোগ দেবেন না।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, নাচ শেখানোর অজুহাতে নানা তার হাত ধরে টানেন, ধাক্কা দেন এবং শরীরে অনভিপ্রেতভাবে স্পর্শ করেন।
তনুশ্রী বলেছিলেন, ‘তিনি আমার হাত ধরে টানছিলেন, আমাকে ধাক্কা দিচ্ছিলেন, চিৎকার করছিলেন।’
তার আরও অভিযোগ ছিল, পরে গানের নাচের ভঙ্গি বদলে নানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রাখার চেষ্টা হয়েছিল। নাচটির কোরিওগ্রাফার ছিলেন গণেশ আচার্য। তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল, গণেশও সমর্থন করেছিলেন নানা পাটেকরকে। শেষ পর্যন্ত ওই ছবিতে আর কাজ করেননি অভিনেত্রী।
হেনস্থার ঘটনার পরে তনুশ্রী শুটিং ছেড়ে সাজঘরে চলে যান এবং তার বাবা-মা তাকে নিতে এলে তিনি গাড়িতে করে স্টুডিও থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন।
তনুশ্রীর অভিযোগ, বাইরে একদল লোক তার গাড়ি ঘিরে হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। তার দাবি ছিল, ওই হামলার সঙ্গে নানার ঘনিষ্ঠদের যোগ ছিল। তবে ২০০৮ সালের পুলিশি অভিযোগে মূলত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটাই নথিভুক্ত হয়েছিল। যৌন হেনস্থার অভিযোগ সেখানে ছিল না।
দশ বছর পরে ২০১৮ সালে তনুশ্রী ফের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তার বক্তব্য, ‘সবাই জানত, কিন্তু কেউ কিছু বলেনি।’
তার এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই ভারতে যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন গতি পায়। সেই সময়ের ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলনে একের পর এক যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠে আসে।
তনুশ্রীর অভিযোগ নানা পাটেকর অবশ্য শুরু থেকেই অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পালটা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘যৌন হেনস্থা বলতে কী বোঝাচ্ছেন? সেখানে পঞ্চাশ থেকে একশো জন মানুষ ছিল।’ পরে নানার আইনজীবী তনুশ্রীকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলেন।
২০১৮ সালের অক্টোবরে তনুশ্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওশিওয়ারা থানায় মামলা হয়। নানা ছাড়াও নৃত্য পরিচালক গণেশ আচার্যেরও নাম ছিল অভিযোগে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ এবং ৫০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছিল।
এর প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে মুম্বাই পুলিশের বক্তব্য ছিল, অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তনুশ্রী সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।
এর পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পরে ২০২৫ সালের মার্চে আন্ধেরির আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে। আদালত জানায়, ২০০৮ সালের ঘটনার প্রায় দশ বছর পরে দায়ের হওয়া মামলাটি আইন নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে। ফলে মূল অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা, সেই প্রশ্নে যাওয়ার সুযোগই পায়নি আদালত।
অর্থাৎ, আদালত নানা পাটেকরকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করেনি, আবার তনুশ্রীর অভিযোগকেও সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করেনি। পুলিশ তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছিল, আর আদালত পরে সময়সীমার কারণে মামলাটি নিষ্পত্তি করে।
নানার মৃত্যুর পরে তার দীর্ঘ অভিনয়জীবন নিয়ে অনেকেই স্মৃতিচারণ করে। বহু তারকাই শোকপ্রকাশ করেন। তার পাশাপাশি তনুশ্রীর এই অভিযোগের প্রসঙ্গও ফিরে আসে।
তনুশ্রী নাম উল্লেখ না করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি খবরটা শুনেছি। কিন্তু আজ আমার কাজের দিন। আমি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লখনৌ যাচ্ছি। আমি সেটাতেই মন দিতে চাই। এমন একটা দিনে এই সব কিছু ঘটল, ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। লখনৌতে আমার একটি বড় অনুষ্ঠান রয়েছে। সেটি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সারা দিনের জন্য অনেক কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। সরাসরি অনুষ্ঠান করব, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলব, এমন পরিকল্পনাও ছিল।’
লখনৌতে অনুষ্ঠান নিয়ে উত্তেজিত ছিলেন তনুশ্রী। কিন্তু নানার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরে তিনি খানিক আতঙ্কিত হয়ে বলেন, ‘এখন আমার ভয় হচ্ছে, সন্ধ্যায় সকলের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠবে এই মৃত্যু। সংবাদমাধ্যম এই নিয়েই প্রশ্ন করবে। তাই কী ভাবে এই প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত জানি না। আমি আমার প্রতিক্রিয়া জানাব। পরিবারের প্রতি অবশ্যই সমবেদনা রইল।’
সূত্র: আনন্দবাজার

