Logo
Logo
×

Advertisement

বিনোদন

অমিতাভ বচ্চনের জীবনের যত অজানা অধ্যায়

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

অমিতাভ বচ্চনের জীবনের যত অজানা অধ্যায়

Advertisement

দীর্ঘ অভিনয়জীবন, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আর গভীর কণ্ঠস্বর—সব মিলিয়ে অমিতাভ বচ্চন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য নাম। জীবনের ৮৫ বছর বয়সেও কাজের প্রতি তার আগ্রহ ও পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে দর্শকদের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রত্যাখ্যান, ব্যর্থতা, অসুস্থতা এবং কঠিন সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস।

আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ফিরে দেখা যাক বলিউডের ‘শাহেনশা’র জীবনের কিছু অজানা ও চমকপ্রদ ঘটনা।

‘কুলি’র শুটিং দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল সিনেমার শেষ

অমিতাভ বচ্চনের অভিনয়জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো ‘কুলি’ ছবির শুটিংয়ে গুরুতর আহত হওয়া। দুর্ঘটনার পর তার জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পরিচালক মনমোহন দেসাই ছবির চিত্রনাট্য ও সমাপ্তিতে পরিবর্তন আনেন। শেষ পর্যন্ত ছবিতে অমিতাভের অভিনীত ইকবাল চরিত্রটিকে জীবিত রাখা হয়। এই ঘটনা অভিনেতার জীবনে যেমন স্মরণীয়, তেমনি তার ভক্তদের কাছেও আবেগঘন অধ্যায়।

অভিনয়ের আগেই পরিচিতি পেয়েছিল কণ্ঠ

অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে কণ্ঠের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছিলেন অমিতাভ। ১৯৬৯ সালে মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ ছবিতে ধারাভাষ্যকার হিসেবে তার কণ্ঠ শোনা যায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সিনেমায় ধারাভাষ্য ও সূত্রধরের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একসময় যে ভারী কণ্ঠস্বর নিয়ে সংশয় ছিল, সেটিই পরবর্তীতে তার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।

রেডিওতে প্রত্যাখ্যান, কলকাতায় চাকরি

চলচ্চিত্রে আসার আগে অমিতাভ বচ্চন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেখানে তিনি সুযোগ পাননি। এরপর কলকাতায় গিয়ে ব্রিটিশ সংস্থা বার্ড অ্যান্ড কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেন। অভিনয়জগতে পা রাখার আগে কলকাতার এই কর্মজীবন তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।

একের পর এক ব্যর্থতার পর ‘জঞ্জির’ এনে দেয় সাফল্য

১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত অমিতাভের ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উতরাই ছিল। তার একাধিক সিনেমা প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু ১৯৭৩ সালে প্রকাশ মেহরা পরিচালিত ‘জঞ্জির’ মুক্তির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ছবিতে তার রাগী ও প্রতিবাদী চরিত্র দর্শকদের মন জয় করে। এই সিনেমার সাফল্য হিন্দি চলচ্চিত্রে অমিতাভের নতুন পরিচয় তৈরি করে এবং তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানোর পথ দেখায়।

কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মেহমুদ

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল অমিতাভকে। সেই সময়ে অভিনেতা ও পরিচালক মেহমুদ তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এমনকি অমিতাভকে নিজের বাড়িতে থাকার সুযোগও দিয়েছিলেন তিনি বলে প্রচলিত রয়েছে।

অন্যদিকে, সুনীল দত্ত পরিচালিত ‘রেশমা অউর শেরা’ ছবিতে অমিতাভকে দেখা গিয়েছিল একজন মূক চরিত্রে। তার কণ্ঠস্বর নিয়ে সংশয়ের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে এসব ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নভাবে উঠে এসেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও প্রতিভার স্বাক্ষর

অমিতাভ বচ্চন শুধু অভিনয়েই নয়, গানেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। ‘লাওয়ারিস’ ছবির ‘মেরে অঙ্গনে মে’, ‘সিলসিলা’র ‘নীলা আসমান সো গয়া’ এবং ‘বাগবান’-এর ‘ম্যায় ইয়াহাঁ তু ওয়াহাঁ’ তাঁর কণ্ঠে গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একলা চলো রে’ গানেও তার কণ্ঠ শ্রোতাদের আকৃষ্ট করেছে।

এ ছাড়া ‘গুড্ডি’, ‘গোলমাল’ ও ‘হিরো হিরালাল’-এর মতো ছবিতে অতিথি চরিত্রে কিংবা নিজের পরিচয়ে হাজির হয়ে দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিয়েছেন এই অভিনেতা।

ছোটপর্দায়ও সাফল্যের নতুন অধ্যায়

বড়পর্দায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ছোটপর্দাতেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন অমিতাভ। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি টেলিভিশন দর্শকদের কাছে নতুনভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। প্রতিযোগীদের সঙ্গে আন্তরিক কথোপকথন, সাবলীল উপস্থাপনা এবং স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর অনুষ্ঠানটিকে জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন ধরে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি প্রমাণ করেছেন, তার জনপ্রিয়তা শুধু সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়।

জয়া বচ্চনের সঙ্গে সংসার, পর্দায় বারবার ‘বিজয়’

১৯৭৩ সালে অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়িকে বিয়ে করেন অমিতাভ বচ্চন। তাদের অভিনীত ‘অভিমান’ ছবিটি বিয়ের প্রায় এক মাস পর মুক্তি পায়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও ‘বিজয়’ নামের চরিত্রটি তার সিনেমায় বারবার ফিরে এসেছে। কখনো প্রতিবাদী যুবক, কখনো কঠোর পুলিশ কর্মকর্তা, আবার কখনো আবেগপ্রবণ পারিবারিক চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন তিনি।

বিরতি পেরিয়ে আবারও সাফল্যের পথে

১৯৯৪ সালে ‘ইনসানিয়ত’ মুক্তির পর অভিনয়জগৎ থেকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেন অমিতাভ। পরে আবারও কাজে ফিরে আসেন এবং নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখেন। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও তার উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র পরবর্তী পর্ব নিয়েও ভক্তদের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে।

সংগ্রাম থেকে কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প

প্রত্যাখ্যান, একের পর এক ব্যর্থতা, শারীরিক বিপর্যয় এবং সময়ের পরিবর্তন—সবকিছুর মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন অমিতাভ বচ্চন। তার দীর্ঘ কর্মজীবন প্রমাণ করে, প্রতিভার পাশাপাশি অধ্যবসায় ও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাও সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আজ তিনি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও কণ্ঠস্বর তাকে দিয়েছে ‘শাহেনশা’ উপাধি। আর প্রতিকূলতা পেরিয়ে বারবার নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার গল্প তাকে করে তুলেছে কোটি ভক্তের অনুপ্রেরণা।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

‘কাজরা রে ২.০’ করতে চান অভিষেক, যেভাবে রাজি করাবেন ঐশ্বরিয়া ও বাবাকে

‘কাজরা রে ২.০’ করতে চান অভিষেক, যেভাবে রাজি করাবেন ঐশ্বরিয়া ও বাবাকে

দুর্ঘটনায় আহত অমিতাভ বচ্চন

দুর্ঘটনায় আহত অমিতাভ বচ্চন

যে উপায়ে জয়াকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন অমিতাভ, এত বছর পর ফাঁস করলেন আসল কারণ

যে উপায়ে জয়াকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন অমিতাভ, এত বছর পর ফাঁস করলেন আসল কারণ

অবসর নিয়ে যা বললেন অমিতাভ বচ্চন

অবসর নিয়ে যা বললেন অমিতাভ বচ্চন

ভাত ত্যাগ করেছেন অমিতাভ, স্বামীকে বিশেষ খাবার দেন জয়া

ভাত ত্যাগ করেছেন অমিতাভ, স্বামীকে বিশেষ খাবার দেন জয়া

৮৪ বছর বয়সে এসে যে আক্ষেপের কথা জানালেন অমিতাভ

৮৪ বছর বয়সে এসে যে আক্ষেপের কথা জানালেন অমিতাভ

আরও পড়ুন

অমিতাভ বচ্চনের জীবনের যত অজানা অধ্যায়

অমিতাভ বচ্চনের জীবনের যত অজানা অধ্যায়

‘জেলার ২’-তে তামান্নার সঙ্গে গান করতে চেয়েছিলেন রজনীকান্ত, বাদ দিলেন পরিচালক

‘জেলার ২’-তে তামান্নার সঙ্গে গান করতে চেয়েছিলেন রজনীকান্ত, বাদ দিলেন পরিচালক

বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহে রণবীরের নতুন চমক বিএমডব্লিউ আই৭

বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহে রণবীরের নতুন চমক বিএমডব্লিউ আই৭

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে মশকরা, সমালোচনায় তানজিন তিশা

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে মশকরা, সমালোচনায় তানজিন তিশা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম