স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ট্র্যাকে আনা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেছেন, বিগত সময়ে স্বাস্থ্যখাতে চরম লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধ্বংসের নিম্ন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সেই অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার করে ইতোমধ্যে ট্র্যাকে ফিরিয়ে এনেছে, এখন এটিকে পূর্ণ গতিতে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (SZMC) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘SZMC DAY 2026’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ঢাকার পাঁচটি টারশিয়ারি হাসপাতালের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের চার্জ নির্ধারণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত বৈঠকের পরই পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প শুরু হবে এবং পরবর্তীতে বগুড়াসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও এ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করা হবে।
চিকিৎসক সংকট নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ক্যাডারে নতুন যোগদান করা চিকিৎসকদের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে বগুড়ায় ১৭ জন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া পিএসসির মাধ্যমে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যার আবেদন গ্রহণ শেষে এখন ইন্টারভিউ পর্যায় রয়েছে। এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশজুড়ে চিকিৎসকের চলমান সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে।
বগুড়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার নতুন করে প্রায় ২০টি আধুনিক আইসিইউ (ICU) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় (ETP) বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বগুড়াসহ দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাহ। প্রধান বক্তা ছিলেন বিসিপিএস সভাপতি এবং কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর।
এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ওবায়দুল হক তরফদারের পৃষ্ঠপোষকতায় সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মু. জহুরুল হক।
