ঝালমুড়ি বিক্রির জায়গা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০
Advertisement
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
ঝালমুড়ি বিক্রির জায়গা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঝালমুড়ি বিক্রির জায়গা দখল নিয়ে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এছাড়াও এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া এলাকার যুবকদের সঙ্গে গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার যুবকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে বুধবার সকালে ফের দুই গ্রামের লোকজন ইটপাটকেল, লাঠিসোটা ও টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষে আহত জুনায়েদ মিয়া (৩০), সাব্বির আহমেদ (২২), লাল মিয়া (১৫), কামরুল হোসেন (৩৫), ইমন মিয়া (২১), জুয়েল মিয়া (৩০), হৃদয় মিয়া (১৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে কামরুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওমর ফারুক (১৮), সজীব মিয়াসহ (১৯) বাকিরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাঁশগাড়ী গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. আতাউর (৩৪), একই এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. কবির হোসেন (৩৮), আদর্শপাড়া এলাকার মৃত আউয়াল মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (১৮) ও তার ভাই রকি মিয়া (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর বিকালে কালিকাপ্রসাদের আদর্শপাড়া গ্রামের আরমান মিয়া ঝালমুড়ি বিক্রি করতে যান বাঁশগাড়ি বালুর মাঠে। এ সময় গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার ফুচকা বিক্রেতা কবীর মিয়ার সঙ্গে ফুচকা ও ঝালমুড়ি বিক্রির জন্য জায়গা দখল নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুইজনের দ্বন্দ্ব দুই গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হন। ঘটনার পর স্থানীয়দের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে আদর্শপাড়া এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা আরমান মিয়া বলেন, আমি বাঁশগাড়ি বালুর মাঠে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে গেলে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। এমনকি ওই এলাকার মানুষ ঝালমুড়ি খেয়ে টাকা কম দিয়ে অত্যাচার করেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকেসহ আমাদের কয়েকজনকে মারধর করে। পরে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে বাঁশগাড়ি এলাকার ফুচকা বিক্রেতা কবীর মিয়া বলেন, বালুর মাঠে অনেক বড় জায়গা। আরমান আমাকে জায়গা দিতে বললে আমি তাকে নির্ধারিত জায়গা দিতে চাই। পরে তিনি এখানে না এসে অন্য জায়গায় গিয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। সেখানে ঝালমুড়ি বিক্রির টাকা কম নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। পরে তিনি একাধিক অভিযোগ নিয়ে আমাদের এলাকার মানুষদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ বিষয়ে ভৈরব সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি ঝালমুড়ি বিক্রির জায়গা নিয়ে ফুটবল খেলার মাঠে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উভয়পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
