ঘুসকাণ্ডে সেই ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বরখাস্ত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
গুনে গুনে ঘুস নেন তহশিলদার সোবাহান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দরকষাকষি করে গুণে গুণে ঘুসের টাকা বুঝে নেওয়া পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবদুস সোবাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হাসান।
নাজমুল হাসান বলেন, আবদুস সোবাহানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বুধবারের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ঘুস গ্রহণ সংক্রান্ত একটি ভিডিওচিত্রে আবদুস সোবাহান রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কক্ষে বসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে গণনা করতে দেখা যায়।
আদেশে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
আবদুস সোবাহানের ঘুসকাণ্ড নিয়ে মঙ্গলবার যুগান্তরের অনলাইন এবং বুধবার প্রিন্ট সংস্করণের নগর-মহানগর পাতায় ‘গুনে গুনে ঘুস নেন তহশিলদার সোবাহান’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে নামজারির সরকারি ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি এবং দরকষাকষি করে ঘুস নির্ধারণ করে অগ্রিম টাকা গ্রহণের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগীর বক্তব্যের পাশাপাশি অর্থ লেনদেনের ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও প্রকাশ করা হয়। এছাড়া তৎকালীন কর্মস্থল পটুয়াখালীর মৌকরণে দায়িত্ব পালনকালে বিএস রেকর্ড সংশোধনের কথা বলে রাঙ্গাবালীর একটি পরিবারের কাছ থেকে নগদ এবং ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তহশিলদার সোবাহান।

