Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর

আম্মারের নেতৃত্বে রাজশাহী রেলস্টেশনে রাতভর ভাঙচুর

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো ও রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

আম্মারের নেতৃত্বে রাজশাহী রেলস্টেশনে রাতভর ভাঙচুর

Advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যদের মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী রেলস্টেশনে রাতভর বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী স্টেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে থানাও ভাঙচুরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা থেকে সোমবার ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর বন্ধের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় রেলস্টেশন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মারধরের শিকার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাবির শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী তার চাচাকে রিসিভ করতে রাজশাহী রেলস্টেশনে যান। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বপালনরত আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি চলছিল।

একপর্যায়ে আইয়ুব ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলতে গেলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। মারধরের একপর্যায়ে আইয়ুব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার খবর দ্রুত রাবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান এবং ব্যবস্থা না নিলে ট্রেনের কর্মীদের আটকের হুমকি দেন।

রেললাইন অবরোধ, বন্ধ রেল যোগাযোগ

এরপর উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা আগুন জ্বালিয়ে রেলপথ অবরোধ করেন। এতে রাজশাহী থেকে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

হাজার হাজার যাত্রী রাজশাহী রেলস্টেশনে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেসের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রাজশাহী রেলস্টেশনের অদূরে মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনও আটকা পড়ে।

আম্মারের নেতৃত্বে রেলস্টেশনে ভাঙচুর

বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর রাকসু জিএস আম্মার লংমার্চের ঘোষণা দেন। তার আহ্বানে রাত ১০টার দিকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রাজশাহী রেলস্টেশনের দিকে দলে দলে রওনা হন শিক্ষার্থীরা।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে স্টেশনের প্রবেশদ্বারের কাচ লোহার পাইপ, গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি ও ইট-পাটকেল দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। পরে আনসার বক্স, বিশ্রামাগার ও টিকিট কাউন্টারে ভাঙচুর চালানো হয়।

এছাড়া স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনার কাচ, ডাস্টবিন, দোকানপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, সাইনবোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়েও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আম্মারের অনুসারীদের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুর ইসলামকেও ভাঙচুরে অংশ নিতে দেখা যায়। শিবিরের কর্মীরাও সেখানে অংশ নেন বলে তারা দাবি করেন। 

বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ

স্টেশনে ভাঙচুরের খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যান।

বিএনপি নেতারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। তবে এ সময় শিক্ষার্থীরা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

একপর্যায়ে ভাঙচুর প্রতিরোধের চেষ্টা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। উভয়পক্ষ একে অপরের দিকে রেললাইনের পাথর নিক্ষেপ করে। এতে পুরো রেলস্টেশন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, প্রক্টর মাহবুবুর রহমানসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য এবং অন্তত ৩০ জন শিক্ষক ঘটনাস্থলে যান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা জানার পর আমরা সেখানে ছুটে গেছি। আমরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। মূলত আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতেই সেখানে যাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় যারা সংশ্লিষ্ট, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। ভাঙচুরের ঘটনায় গুটিকয়েক সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিলেন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী। ভাঙচুরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দরকার। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।’

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করি। তাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট না করার অনুরোধ জানাই। শিক্ষার্থীর ওপর হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রাবির জিএস সালাউদ্দিন আম্মার শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়েছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। আম্মারের নেতৃত্বেই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। তবে সাধারণ জনগণ আম্মারের তাণ্ডব প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন।’

চার আরএনবি সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রোববার রাতেই পশ্চিমাঞ্চল রেলের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন- আরিফ হোসেন (স্টাফ নম্বর সি-৯৮৯), রোকন উদ্দীন (সি-৮৮৩), শফিকুল ইসলাম (সি-১৩২১) ও শাহাদত হোসেন (সি-৬০০)।

সোমবার দুপুরে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুম। কমিটিতে রয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন, বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাকিল আহমেদ, আরএনবি কমান্ড্যান্ট রেজওয়ানুর রহমান এবং বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াজ জহুর তানিম।

আহত শিক্ষার্থীর অবস্থা

আইয়ুব আলীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক খুরশিদ আলম বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থী মোটামুটি ভালো আছেন। কিছুক্ষণ আগেও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর আমরা রাখছি।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাবাবদ যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব আমরা সহায়তা করছি। বর্তমানে আইয়ুব সুস্থ ও আশঙ্কামুক্ত আছেন।’

ক্ষোভ বিভিন্ন মহলে

রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, ‘যারা এখানে ছাত্রদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা যেসব সরকারি সম্পদ ধ্বংস করেছেন, সেগুলো আমাদের ট্যাক্সের টাকার সম্পদ। কাউকে এই অধিকার দেওয়া হয়নি যে, তুচ্ছ ঘটনায় এগুলো ধ্বংস করবে। ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় আমি নিন্দা জানাচ্ছি। জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে। আর যারা ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।’

তাসনিম আলম সৈকত নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘স্বচক্ষে দেখলাম শুরুটা। একটা আরএনবি, একটা ছাত্র দিয়ে শুরু। খুবই তুচ্ছ একটা ঘটনা। অপরাধ দুজনের। তবে ছাত্রটার একটু বেশি। কারণ সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকের কলার ধরতে পারে না এবং সেই প্রথম আরএনবির গায়েও হাত তুলেছে। কিন্তু ছবিতে যে ছাত্রটা আহত অবস্থায় শুয়ে আছে, সে নিরপরাধ। কারণ সে উভয়পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করছিল। ফলাফল কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট। হাজার মানুষের ভোগান্তি। কবে আমরা মানুষ হব।’

জিএস আম্মারের বক্তব্য

স্টেশনে শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘বিগত দুই মাসে শিক্ষার্থীদের ওপর চার থেকে পাঁচবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ যে ঘটনা ঘটেছে, তা অপ্রত্যাশিত। সম্প্রীতি রক্ষা করতে হলে রেল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুকুর-বিড়ালের মতো আচরণ করবে, এটা আমরা মানব না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি সম্পদের কথা যদি বলি, তাহলে আমার কাছে মানবসম্পদের চেয়ে বড় কোনো সম্পদ নেই। একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার মানবসম্পদ। আমার ৭৫৩ একরের ক্যাম্পাসের জার্সি পরা একজন শিক্ষার্থী যখন মার খেয়ে মাটিতে পড়ে ছিল, তখন রাজশাহীবাসীর আবেগ কোথায় ছিল? তখন তারা কেন প্রতিবাদ করেননি?’

আম্মার বলেন, ‘আমরা বিকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। এর মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ দুঃখপ্রকাশ করেনি, কোনো উদ্যোগও নেয়নি। ফলে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আমাদেরই অবস্থান নিতে হয়েছে। রাজশাহীবাসী এখন যদি আমাকে দোষ দিতে চায়, ঠিক আছে। এমন হাজারটা দোষের অভিযোগ আমি নিতে প্রস্তুত; কিন্তু আমার কাছে আমার শিক্ষার্থীরাই প্রথম অগ্রাধিকার।’

রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

রোববার রাতে শিক্ষার্থী আইয়ুবকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর রাতভর রাজশাহী রেলস্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে ধূমকেতু এক্সপ্রেসের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করতে হয়। রাজশাহী রেলস্টেশনের অদূরে মধুমতি এক্সপ্রেসও আটকা পড়ে।

তবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজশাহী থেকে সব রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সূচি অনুযায়ী যথাসময়ে ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও আইনি ব্যবস্থা

পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুম সোমবার বিকালে শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’

এ ঘটনায় আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাও হবে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই প্রশ্ন করছেন, আমাদের মধ্যে সমস্যা কেন হচ্ছে। এ সমস্যা আর থাকবে না। আমরা রাবিতে যাব। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসব, গল্প করব। কোনো রাগ-অভিমান থাকলে তা শেয়ার করব, ভালোলাগার বিষয়গুলোও শেয়ার করব। একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমরা সারা রাত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে ব্যস্ত রেখেছি। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে, আলোচনা চলছে। কিন্তু এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তখন যদি দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি এ পর্যায়ে আসত না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, রেলের ভেতরেই কোথাও একটা সমস্যা আছে। সেখানে যারা দায়িত্বে আছেন, তারা হয়তো বিষয়গুলো জেনে-শুনেও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ঘুমন্ত রাবি শিক্ষার্থীকে সাপের কামড়

ঘুমন্ত রাবি শিক্ষার্থীকে সাপের কামড়

বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় দেশসেরা হলেন রাবির সিয়াম

বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় দেশসেরা হলেন রাবির সিয়াম

রাবি স্টেশনে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতিসহ ৫ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

রাবি স্টেশনে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতিসহ ৫ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে রেলকর্মীদের

রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে রেলকর্মীদের

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে উত্তপ্ত রাজশাহী, রেলস্টেশন ভাঙচুর

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে উত্তপ্ত রাজশাহী, রেলস্টেশন ভাঙচুর

রাবি আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলায় দুই বিভাগের সংঘর্ষ

রাবি আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলায় দুই বিভাগের সংঘর্ষ

আরও পড়ুন

কিশোর গ্যাং বিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ১০০

কিশোর গ্যাং বিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ১০০

রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি ঐতিহ্য হারিয়ে ধুঁকছে পাঠকখরায়

ঐতিহ্য হারিয়ে ধুঁকছে পাঠকখরায়

স্কুলছাত্রীর লাশ ঘিরে মিলছে নানা তথ্য যশোরে মন্দির দখলে নিতে ইসকনের অপতৎপরতা

যশোরে মন্দির দখলে নিতে ইসকনের অপতৎপরতা

খুলনা সিটি নির্বাচন বিএনপির বাধা কোন্দল গ্রুপিং জামায়াতের টার্গেট ‘মেয়র’

বিএনপির বাধা কোন্দল গ্রুপিং জামায়াতের টার্গেট ‘মেয়র’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম