অন্ধকারে মানবেতর জীবন বৃদ্ধ দম্পতির
মৃত্যুর আগে নিরাপদ ঘর চান কিরণ হাজং
Advertisement
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুর্গাপুরের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা কিরণ হাজং (৮৩) ও তার স্ত্রী পিকলা হাজং (৭৮) বার্ধক্য, দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের সঙ্গে লড়াই করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরই তাদের আশ্রয়। ভাঙা টিন ও প্লাস্টিক দিয়ে কোনোমতে টিকে থাকা ঘরটিতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে, ভিজে যায় বিছানা। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার ঘরে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বয়সের ভারে কিরণ হাজং প্রায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। চলাফেরাও করতে হয় অন্যের সহায়তায়। স্ত্রী পিকলা হাজংও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় দুবেলা খাবারের জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় প্রতিবেশীদের সহায়তার ওপর। কেউ খাবার দিলে খেতে পারেন, না দিলে না খেয়েই দিন কাটে।
কিরণ হাজং জানান, একসময় দিনমজুরি, ধান কাটা ও মাছ ধরে সংসার চালিয়েছেন। এখন শারীরিক সক্ষমতা না থাকায় কোনো কাজ করতে পারেন না। প্রায় চার বছর আগে বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করলেও এখনো সেই সুবিধা পাননি। তার আক্ষেপ, জীবনের শেষ সময়ে অন্তত একটি নিরাপদ ঘর ও নিয়মিত বয়স্ক ভাতা পেলে কিছুটা স্বস্তিতে বাঁচতে পারতেন।
পিকলা হাজং বলেন, অনেক দিন ধরে মাছ-মাংস খাওয়ার সুযোগ হয়নি। অনেক সময় একটি ডিম দুজনে ভাগ করে খেতে হয়। রাতে মুড়ি বা জলভাত খেয়েই দিন শেষ করেন তারা। প্রতিবেশী জিতেন্দ্র হাজং জানান, তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ নিয়মিত সহযোগিতা করতে পারেন না। স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে তাদের জীবন চলছে। সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রিতা নকরেক বলেন, বৃদ্ধ দম্পতির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
