চাচার মৃত্যুতে রাহুল গান্ধীর সমাবেশে অনুপস্থিত, পদ গেল নেতার
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে যোগ না দেওয়ায় প্রায় ২০০ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ভারতীয় যুব কংগ্রেস। বরখাস্ত নেতাদের মধ্যে একজন চাচার স্মরণসভায় যোগ যাওয়ায় সমাবেশে অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি আগেই দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির হাতে আসা বরখাস্তের চিঠি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সাত রাজ্যের অন্তত ১৮৫ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শৃঙ্খলাবিষয়ক পর্যালোচনা শেষে এই সংখ্যা ৫০০ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তবে বরখাস্ত হওয়া যুব কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য এ সিদ্ধান্তে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর দলের জন্য কাজ করার পরও একটি সমাবেশে অনুপস্থিতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রোহিত রাজোরিয়াকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দলের জন্য এফআইআরের মুখোমুখি হয়েছি, কারাগারেও গেছি। শুধু একটি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার কারণে কি আমাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?’
রাজোরিয়া এনডিটিভিকে বলেন, ১৫ বছর ধরে দলের জন্য কাজ করার পরও যুব কংগ্রেস স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে। এ সময়ে দলের আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ১৫টি এফআইআর হয়েছে এবং তিন থেকে চারবার কারাগারেও যেতে হয়েছে।
চাচার মৃত্যুর ১৩তম দিনের স্মরণসভায় উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণসংবলিত একটি কার্ডও দেখান তিনি। রাজোরিয়ার দাবি, চাচার মৃত্যুর বিষয়টি এবং ১ নভেম্বর নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর সমাবেশে যেতে না পারার বিষয়টি তিনি আগেই দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন।
একটি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার কারণে সরাসরি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন রাজোরিয়া। এমন পরিস্থিতিতে দল কীভাবে আবার ক্ষমতায় ফেরার আশা করে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
সাত রাজ্যে ১৮৫ সদস্য বরখাস্ত
যুব কংগ্রেস সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থা নিয়েছে মধ্যপ্রদেশে। সেখানে ৬০ জন সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর রয়েছে গুজরাটে ৪৯ জন এবং পশ্চিমবঙ্গে ২৬ জন। এ ছাড়া তেলেঙ্গানায় ১৪, উত্তর প্রদেশের মধ্যাঞ্চলে ১৩, কংগ্রেসশাসিত হিমাচল প্রদেশে ১৩ এবং হরিয়ানায় ১০ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
১ নভেম্বরের প্রতিবাদ সমাবেশের আগে যুব কংগ্রেসের জাতীয়, রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের সব সদস্যকে সমাবেশ এবং এর আগে অনুষ্ঠিত মিছিলে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
উপস্থিতি ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিশ্চিত করতে মিন্টো রোডের সমাবেশস্থলে বারকোড স্ক্যানার বসানো হয়।
যুব কংগ্রেসের দাবি, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মিছিলে অংশ নিতে মিন্টো রোডে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপে উপস্থিতি নিবন্ধন করেন মাত্র ২ হাজার ৮৩১ জন।
অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মিন্টো রোড থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের দুর্বলতা, কর্মীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব এবং অ্যাপে উপস্থিতি নিবন্ধনে অনাগ্রহের কারণে এ সমস্যা হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক সদস্য আগাম কোনো তথ্য না দিয়েই সমাবেশে অনুপস্থিত ছিলেন।
যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব এনডিটিভিকে বলেন, ‘আমাদের সমাবেশ অত্যন্ত সফল হয়েছে। ১৫ হাজারের বেশি যুব কংগ্রেস কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বেশির ভাগ কর্মী সমাবেশ ও মিছিলে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন পদধারী শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি। তাই সংগঠনের মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্বহীন ব্যক্তিদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের জায়গায় পরিশ্রমী কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া যায়। দেশে পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে আমরা ৫০ হাজার মানুষ জড়ো করতে পারব। তাই সংগঠনের নেতৃত্বে সক্রিয় ব্যক্তিদের থাকা প্রয়োজন।’

