খাবার কিনতে ঋণ করছেন মেসির দেশের মানুষ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি লিওনেল মেসির দেশ আর্জেন্টিনায় চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।
বর্তমানে দেশটির নাগরিকরা খাবার এবং ওষুধের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন, ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করছেন অথবা ক্রেডিট কার্ডের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
বুয়েনস আইরেসের গ্র্যান্ডে ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন সঞ্চয় ভেঙে অথবা ধার করে সংসার চালাচ্ছেন। ৪৩ বছর বয়সি বিক্রেতা দিয়েগো নাকাশিওর মতো অনেকেই জানিয়েছেন, মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই তাদের বেতন শেষ হয়ে যায় এবং মাসের বাকি দিনগুলোতে খাবারের খরচ মেটাতে তাদের ছোটখাটো ঋণ বা বাড়তি কাজের ওপর নির্ভর করতে হয়।
প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারি ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে অর্থনীতিতে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছেন। যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ ও ২০২৭ সালে আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন।
নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকিং ও কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও উৎপাদন এবং খুচরা বিক্রয় খাতে ব্যাপক ধস নেমেছে। স্বাধীন খুচরা বিক্রেতাদের মতে, মানুষের খাদ্যদ্রব্য ক্রয়ের পরিমাণ ১২.৫ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়েও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এই সংকট আর্জেন্টিনাকে এক বিপজ্জনক ঋণচক্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে দেশটির ১১ শতাংশ ব্যক্তিগত ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ। অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক বা চড়া সুদের ঋণদাতার দ্বারস্থ হচ্ছেন।
স্কুল শিক্ষক ভেরোনিকা মালফিতানোর মতো অনেকেই এখন পরিবার বা সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে পাইকারি দরে পণ্য কিনছেন এবং ক্রেডিট কার্ডের কেবল ন্যূনতম পাওনা পরিশোধ করে দিন অতিবাহিত করছেন। দেশটির প্রায় অর্ধেক সুপারমার্কেট কেনাকাটা এখন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, যা আর্জেন্টিনার ইতিহাসে একটি রেকর্ড।
অর্থনীতিবিদ লুসিয়া ক্যাভালেরো এই পরিস্থিতিকে একটি বড় সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, কেবল ঋণ দিয়ে বা কিস্তি সুবিধা বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন এবং মজুরি বৃদ্ধি, যাতে তা নিত্যপণ্যের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
রাজনৈতিক দলগুলো ঋণের বোঝা কমাতে নতুন বিল আনার প্রস্তাব করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় না কমলে এই অন্তহীন ঋণচক্র থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সূত্র: আলজাজিরা।

