Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ফ্রিজ ছাড়া যে পদ্ধতিতে আঙুর ৬ মাস সতেজ রাখেন আফগানরা

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

ফ্রিজ ছাড়া যে পদ্ধতিতে আঙুর ৬ মাস সতেজ রাখেন আফগানরা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

আধুনিক হিমাগার বা রাসায়নিক ছাড়াই শীতের তীব্রতায় সতেজ আঙুরের স্বাদ নিতে পারছেন আফগানিস্তানের মানুষ। 

দেশটির রাজধানী কাবুলের উত্তর উপকণ্ঠে অবস্থিত কালাকান জেলার বাসিন্দারা এক হাজার বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী কৌশলে এ ফল সংরক্ষণ করে আসছেন, যা আজও সমান জনপ্রিয়। 

আফগানিস্তানের বিশেষ এ পদ্ধতিটির নাম ‘কানগানা’। এটি মূলত কাদা ও খড় মিশিয়ে তৈরি করা একটি বায়ুরোধী মাটির পাত্র। গ্রীষ্মকালে কাদা ও খড় মিশিয়ে বাটির মতো দুটি অংশ তৈরি করা হয়, যা রোদে শুকিয়ে শক্ত করা হয়। এটাকেই বলা হয় কানগানা। এর ভেতর আঙুর রেখে মুখটি কাদা দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়। 

এ পদ্ধতিতে অক্টোবর মাসে সংরক্ষণ করলে পরবর্তী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত আঙুর সতেজ থাকে। কেবল মাটি ও খড় দিয়ে ‘কানগানা’ নামের এ পাত্র তৈরি করা হয়। ফল রাখার পর পাত্রটি সম্পূর্ণ বায়ুরোধী করে একটি শীতল ও শুষ্ক স্থানে রেখে দেওয়া হয়। 

অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব 

আফগান সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞ আকরামি ফেন্দাকাস্তানি সিনহুয়াকে জানান, কানগানা কেবল একটি পাত্র নয়, এটি গ্রামীণ জনপদের টিকে থাকার একটি আদিম ও মৌলিক কৌশল। এটি ফলের স্বাদ ও মান বজায় রাখতে প্রাকৃতিকভাবে কাজ করে।

বাজারের একজন বিক্রেতা উজির খান (৩৮) জানান, তিনি গত ২০ বছর ধরে এ পদ্ধতিতে আঙুর সংরক্ষণ করে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি ৫ হাজারটি কানগানা বিক্রি করেছি। প্রতিটি পাত্রে প্রায় এক কেজি আঙুর থাকে।’ এ ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি তার ১০ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করছেন। 

উপযুক্ত ফল ও বিশেষত্ব 

অবশ্য সব ধরনের আঙুর এ পদ্ধতিতে রাখা যায় না। মূলত ‘তাইফি’ জাতের আঙুরই কানগানার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এ জাতের আঙুর আকারে বড়, রসালো এবং এর খোসা বেশ পুরু হয়, যা দীর্ঘ সময় পচে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। 

এক সময় আপেল ও মরিচও এ পদ্ধতিতে রাখা হতো, তবে বর্তমানে শীতকালেও সেগুলো বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ মূলত আঙুর সংরক্ষণের জন্যই কানগানা ব্যবহার করেন। কানগানার এ আঙুরের স্বাদ নিতে দেশটির কান্দাহার ও হেরাত প্রদেশের মতো দূরবর্তী অঞ্চল থেকেও মানুষ শত শত কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কালাকানে ছুটে আসেন।

সূত্র: সিনহুয়া 

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

আফগানিস্তানে ৫৮ সন্তানের বাবা মোহাম্মদ সাদিক

‘সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারি না’ আফগানিস্তানে ৫৮ সন্তানের বাবা মোহাম্মদ সাদিক

মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের বাড়তে থাকা ভূমিকায় নতুন চাপের জায়গা আফগানিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের বাড়তে থাকা ভূমিকায় নতুন চাপের জায়গা আফগানিস্তান

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ২২

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ২২

আফগানিস্তানে ব্যাপক ড্রোন ও বিমান হামলা পাকিস্তানের

আফগানিস্তানে ব্যাপক ড্রোন ও বিমান হামলা পাকিস্তানের

পাকিস্তান হামলা চালালে ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়া হবে: আফগানিস্তান

পাকিস্তান হামলা চালালে ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়া হবে: আফগানিস্তান

তিন বছরে রেকর্ড ৬০ লাখ আফগান শরণার্থীর নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন: জাতিসংঘ

তিন বছরে রেকর্ড ৬০ লাখ আফগান শরণার্থীর নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন: জাতিসংঘ

আরও পড়ুন

জাপানে যাত্রীবাহী বিমানের ভেতর সাপ, অতঃপর...

জাপানে যাত্রীবাহী বিমানের ভেতর সাপ, অতঃপর...

নাগরিকদের সৌদি ছাড়ার পরামর্শ ইতালির

নাগরিকদের সৌদি ছাড়ার পরামর্শ ইতালির

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্প: সর্বাত্মক অভিযানের নির্দেশ শি জিনপিংয়ের

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্প: সর্বাত্মক অভিযানের নির্দেশ শি জিনপিংয়ের

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮, ধসে পড়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮, ধসে পড়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম