অস্ত্র বিক্রি নিয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
চার দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে লাইয়ের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং তে জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে চান। এটি ঘটলে চার দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে যেতে পারে এবং চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। খবর আল জাজিরার।
বুধবার (২০ মে) সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন, তিনি লাইয়ের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সময়ে হোয়াইট হাউস তাইওয়ানের জন্য বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ বিবেচনা করছে। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠকের পর এটি ছিল দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্পের এমন মন্তব্য।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ওয়াশিংটন তাইওয়ান থেকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি সরিয়ে বেইজিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি। বুধবার ট্রাম্প আবারও বলেন, তিনি লাইয়ের সঙ্গে কথা বলবেন—যা আগে ‘ভুলবশত মন্তব্য’ বলে ধারণা করা হয়েছিল, সেটিও তিনি পরিষ্কার করেন।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট লাই বলেছেন তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘চীনই শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বাধা সৃষ্টি করছে’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনায় ‘খুশি হবেন’।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি।’ তিনি আরও দাবি করেন, বেইজিং সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক ভালো হয়েছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, তাইওয়ানের জন্য অস্ত্র বিক্রি চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি দরকষাকষির বিষয় হতে পারে। প্রস্তাবিত নতুন অস্ত্র প্যাকেজের মূল্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘তাইওয়ান রেগুলেশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ওয়াশিংটন বাধ্য।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি, তাই অস্ত্র ক্রয় নিয়ে তারা আশাবাদী।
তাইওয়ান বর্তমানে নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং চীনের সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চাপের মধ্যে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রথম মেয়াদে নির্বাচনের পর ট্রাম্প তৎকালীন তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনালাপ করেছিলেন, যা তখন চীনকে ক্ষুব্ধ করেছিল এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

-6a0ecf93ba56a.jpg)