Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজায় ইসরাইলি হামলায় পুলিশসহ নিহত ৬

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১২:২০ পিএম

যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজায় ইসরাইলি হামলায় পুলিশসহ নিহত ৬

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৩ বছর বয়সি এক কিশোর নিহত হয়েছে। 

উত্তর গাজার আত-তুয়াম এলাকায় অবস্থিত একটি পুলিশ পোস্টে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং নিকটবর্তী আল-শিফা হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাশের রাস্তায় থাকা এক কিশোর বেসামরিক নাগরিক হিসেবে এই হামলায় নিহত হয়। 

এছাড়া এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত আরও ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজা জুড়ে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গাজা পুলিশ পরিদপ্তর এক বিবৃতিতে এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পরিকল্পিতভাবে গাজার পুলিশ, স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে। 

গাজায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ১০ হাজার সদস্যের এই পুলিশ বাহিনী বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনা সংক্রান্ত আলোচনার অন্যতম প্রধান একটি জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সংঘাতের সাময়িক অবসান ঘটলেও, ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই গাজায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী বজায় রেখে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭২,৭৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কেবল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই নিহত হয়েছেন ৮৮৩ জন।

গাজার পুলিশ বাহিনীর ওপর এই ধারাবাহিক হামলা উপত্যকাটিতে চলমান মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই ধ্বংসাত্মক তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য হলো গাজায় তীব্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং অবশিষ্ট বেসামরিক প্রশাসনিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুপস্থিতিতে সেখানে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, যার ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ পৌঁছানো এবং সেই ত্রাণবাহী গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলশ্রুতিতে ত্রাণ সামগ্রী ছিনতাই ও লুটপাটের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

ত্রাণ সংকটের পাশাপাশি গাজার অবরুদ্ধ শিশুরা এখন তীব্র স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, ইঁদুর, উকুন ও মাইটের মতো ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গের উপদ্রব বৃদ্ধির কারণে গাজার শিশুরা ব্যাপকভাবে চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে সাধারণ ওষুধ ও চিকিৎসার মাধ্যমে এগুলো সহজেই নিরাময় সম্ভব হলেও গাজায় বর্তমানে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে আক্রান্ত হাজার হাজার শিশুর মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, আর বাকি শিশুরা কোনো প্রকার চিকিৎসা ছাড়াই চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম