ভারতের জেন-জি আন্দোলন
নারী বিক্ষোভকারীদের বিকৃত ছবি ছড়িয়ে ট্রল-বুলিং করছে উগ্রপন্থিরা, দেওয়া হচ্ছে হুমকি
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলন শেষ হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে চরম হেনস্তার শিকার হচ্ছেন নারী বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ উঠেছে, উগ্রপন্থি বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে জেন-জি নারী আন্দোলনকারীদের নিশানা করে কাটা (ক্রপ করা) ছবি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ছড়ানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারের জোর দাবি জানানো হচ্ছে অনলাইনে।
প্রেক্ষাপট ও ক্ষোভের শুরু
গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অশালীন ভাষায় স্লোগান দেন। গত ২৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক দিন পার হতেই দেখা যায়, উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো স্লোগান দেওয়া পুরুষদের বাদ দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুধু নারীদেরই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
অনলাইনে যেভাবে চলছে হয়রানি
সামাজিক মাধ্যম এক্সে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে নারী আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে:
‘দ্য জয়পুর ডায়ালগস’ নামক অ্যাকাউন্ট থেকে নারী আন্দোলনকারীদের মুখের ক্লোজ-আপ ছবি পোস্ট করে তাদের পরিচয় প্রকাশ (ডক্সিং) করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করা এক তরুণীর ভিডিও শেয়ার করে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য দিল্লি পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছে তারা।
চার লাখের বেশি অনুসারী থাকা ‘বিয়িং হিউমার’ অ্যাকাউন্ট থেকে এক নারীর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে গালি দেওয়ার ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়, সিজেপি আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বিদ্রূপ হলো, নারীরাই সবচেয়ে নারীবিদ্বেষী গালি দিয়েছেন।
সাত হাজার অনুসারী থাকা ‘লে. কর্নেল সুশীল সিং শেখাওয়াত’ নামক অ্যাকাউন্ট থেকে এক নারী আন্দোলনকারীর স্লোগান দেওয়ার ভিডিও শেয়ার করে নারীদের সৌন্দর্য, ত্যাগ ও কোমলতার প্রসঙ্গ টেনে তাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
গ্রেফতার ও পুলিশের ভূমিকা
সিজেপির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সমঝোতা সত্ত্বেও আন্দোলন ঘিরে বিহারে ৩০০ জনের বেশি, পশ্চিমবঙ্গে ১৬ জন ও আসামে ১৩ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে সোমবার বিহার ও আসাম সরকার তরুণদের মুক্তি ও আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে করা আপত্তিকর পোস্ট মুছে ফেলতে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টকে নোটিশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের পরও নারীদের ওপর সাইবার আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।
চরিত্রহনন ও আইটি সেলের দিকে অভিযোগের আঙুল
ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট অল্ট নিউজের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জুবায়ের গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে জানান, শাহিনবাগ ও কৃষক আন্দোলনের সময়ও এমনটি দেখা গেছে। মূলত বিকৃত ছবি ও ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে নারীদের চরিত্রহনন করে আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি দাবি করেন, বিজেপি সমর্থকেরা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ইতোমধ্যে অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়ে সাইবার নিপীড়নের অভিযোগ দায়ের করেছেন মুম্বাইয়ের আন্দোলনের পরিচিত মুখ রিয়া যাদব আহির।
পুরো বিষয়টিকে বিজেপির আইটি সেলের কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় লেখক হুসাইন হায়দরি। তিনি বলেন, তারা (আইটি সেল) পুলিশকে দিয়ে এসব তরুণীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। তরুণীদের হুমকি ও গালিগালাজ করতে মানুষকে উসকে দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্যা প্রিন্ট

