ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে
Advertisement
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
অভিজিৎ দীপকে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক এবং প্রতিবাদের ভাষা কীভাবে মূলধারার রাজনীতিতে আলোড়ন তুলতে পারে, তার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন ভারতীয় তরুণ রাজনৈতিক কর্মী অভিজিৎ দীপকে।
মূলত প্রতীকী রসিকতা ও জেন-জি প্রজন্মের ক্ষোভকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে রয়েছে এক চমকপ্রদ ও ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপট।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগর (ঔরঙ্গাবাদ) শহরের এক দলিত পরিবারে জন্ম নেওয়া অভিজিৎ পুণে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনসংযোগ বা পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি আম আদমি পার্টির (আপ) সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভায় তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে পরিচালিত ডিজিটাল প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন তিনি।
তবে তার মূল রাজনৈতিক উত্থানের শুরু ২০২৬ সালের ১৬ মে। ওই সময়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এক শুনানিতে দেশের বেকার তরুণদের প্রসঙ্গ টেনে ‘তেলাপোকা’ বা পরজীবী শব্দটির অবতারণা করেছিলেন।
বিচারপতির এই মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এর ঠিক পরদিন বোস্টনে অধ্যয়নরত অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (তৎকালীন টুইটার) ‘যদি সব তেলাপোকা একত্রিত হয়?’—এই এক লাইনের একটি পোস্ট দেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এই পোস্ট থেকেই জন্ম নেয় শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নামের আদলে ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির।
প্রাথমিকভাবে দলটির সদস্যপদের শর্তগুলোও রাখা হয়েছিল সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী যেমন বেকার হওয়া, দীর্ঘ সময় অনলাইনে সক্রিয় থাকা এবং পেশাদারির সঙ্গে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ক্ষমতা। তবে অল্পদিনের মধ্যেই এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি বেকারত্ব, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বাস্তব ও জোরালো দাবিতে লাখ লাখ তরুণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে এই আন্দোলন ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সিজেপির অনুসারী সংখ্যা কোটির ঘরে পৌঁছে যায়।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই আন্দোলন দ্রুত রাজপথে রূপ নেয়। ভারতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও নানা অনিয়মের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসেন অভিজিৎ দীপকে।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে তার নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। পুলিশি বাধা, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে তিনি আন্দোলনে অনড় থাকেন এবং একপর্যায়ে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী ও ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ককে কেন্দ্র করেও তিনি মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মেগা বিক্ষোভের ডাক দিয়ে ভারতীয় যুবসমাজের একটি বড় অংশের প্রধান কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমের একটি নিছক ব্যঙ্গাত্মক স্লোগানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে অভিজিৎ দীপকে আজ ভারতের তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সমীকরণে এক আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।



