জ্বালানি সংকটে আবারও অন্ধকারে ডুবেছে পুরো কিউবা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি ও খুচরা যন্ত্রাংশের চরম সংকটের কারণে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় ছিল। এরই মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে অন্ধকারে ডুবে গেছে।
রোববার (২ আগস্ট) গভীর রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় এ বিপর্যয়ের কথা জানায় কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানি ‘ইউনিয়ন ইলেকট্রিকা’ (ইউএনই)। তবে ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে, এর প্রভাব কতটা ব্যাপক বা কখন নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই দেশব্যাপী বিপর্যয়ের আগেই হাভানার বিদ্যুৎ কোম্পানি জানিয়েছিল যে, ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়া, সার্কিটে ত্রুটি এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, রোববার ভোরে গুয়ানাবাকোয়া, হাবানা দেল এস্তে, লা লিসা এবং মারিয়ানাওসহ বিভিন্ন পৌরসভায় বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বহু অমীমাংসিত অভিযোগ জমা পড়েছিল।
সাধারণত এমন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ প্রথমে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং খাদ্য সংরক্ষণাগারগুলোতে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য ছোট ও বিচ্ছিন্ন পাওয়ার নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এরপর ধীরে ধীরে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে আবার মূল লাইনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
দেশব্যাপী ঘন ঘন ব্ল্যাকআউট
রোববারের এই ঘটনাটি চলতি বছর দেশজুড়ে চলা ধারাবাহিক ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে গত জুলাই মাসে মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে তিনবার জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটেছিল, যার মধ্যে একই সপ্তাহে দুবার পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি বিপর্যয়ে প্রায় এক কোটি মানুষ অন্ধকারে তলিয়ে যায়। সেবার নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করার পরও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারায় সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছিল।
জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের অভাব এবং পুরোনো থার্মোইলেকট্রিক বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বারবার ত্রুটির কারণে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়স ৩০ বছরেরও বেশি এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও হয়েছে সামান্যই।
যুক্তরাষ্ট্রকে দুষছে কিউবা সরকার
কিউবা সরকারের অভিযোগ, এই সংকটের পেছনে ওয়াশিংটন দায়ী। যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় তেল সরবরাহের পাশাপাশি অর্থায়ন ও সরঞ্জাম পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেন, যার ফলে কিউবা তাদের জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎস হারায়।
দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল ভেনেজুয়েলা। কিন্তু ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মেক্সিকো থেকেও তেল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দশকের পর দশক ধরে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের অভাব এবং অব্যবস্থাপনাই মূলত এই তীব্র সংকটের জন্য দায়ী।
দীর্ঘস্থায়ী এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশটির পরিবহন ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ, টেলিযোগাযোগ এবং চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমে খাবার সংরক্ষণ, রান্না করা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স

