ভারতীয় হাইকোর্টের রায়
বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তে নয়, জীবনসঙ্গী পছন্দে সন্তানরা থাকবে স্বাধীন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা স্বাধীন ব্যক্তি এবং তারা কোনোভাবেই বাবা-মায়ের সম্পত্তি নয়—একটি মামলার শুনানিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক এই রায় দিয়েছে ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট। খবর এনডিটিভির।
পছন্দের মানুষের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের জিম্মা চেয়ে এক মায়ের দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ওই তরুণীর রয়েছে।
বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী যদি নিজের ইচ্ছায় তার জীবনসঙ্গী বেছে নেন, তবে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা যাবে না।
উল্লেখ্য, হেবিয়াস কর্পাস হলো একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে কিনা—তা নির্ধারণ করতে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনাটির সূত্রপাত নাগপুরে। ১৭ বছর বয়সে ওই তরুণী কোচিং ক্লাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি এক যুবকের সঙ্গে চলে যাচ্ছেন। পুলিশ তখন তরুণীকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই তরুণী পুনরায় বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে তার মা মেয়ের জিম্মা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
মামলার শুনানিকালে আদালত সরাসরি ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। তরুণী বিচারককে জানান, তিনি নিজের ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন এবং ওই যুবকের সঙ্গেই বসবাস করছেন ও ভবিষ্যতেও তার সঙ্গেই থাকতে চান।
শুনানি শেষে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, তরুণী বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক এবং তার জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় যুবকটি মেয়েটিকে বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিল—মায়ের এমন অভিযোগও আদালত নাকচ করে দেন। এ ছাড়া যুবকটির বিরুদ্ধে ‘পকসো’ আইনে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে মা যে অভিযোগ তুলেছিলেন, তা-ও খারিজ হয়ে যায়।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী বিভিন্ন রায়ের উল্লেখ করে হাইকোর্ট মনে করিয়ে দেয়, সন্তানের জিম্মা সংক্রান্ত বিষয়ে বাবা-মায়ের অধিকারের চেয়ে সন্তানের কল্যাণ ও ইচ্ছাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।
আদালত চূড়ান্ত রায়ে বলেন, হেবিয়াস কর্পাস আবেদন সফল হতে হলে ‘বেআইনি আটক’ বা জবরদস্তির বিষয়টি প্রমাণ হতে হয়। যেহেতু এই মামলায় তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং তরুণী নিজের ইচ্ছায় বসবাস করছেন, তাই নাগপুর বেঞ্চ মায়ের করা আবেদনটি খারিজ করে দেন।

