আলিঙ্গন কূটনীতি বিতর্কে রাহুলকে পাল্টা নিশানা নিশিকান্তের, টানলেন ইন্দিরাকেও
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
নিশিকান্ত দুবে ও রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। মোদির বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়ককে আলিঙ্গন করাকে কটাক্ষ করে রাহুল বলেছিলেন, আলিঙ্গন করা কোনো পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না।
তার জবাবে এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে আলিঙ্গনের ছবি তুলে ধরে পাল্টা আক্রমণ করেছে বিজেপি। একই সঙ্গে রাহুলের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে ইতালির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রসঙ্গও সামনে এনেছে ক্ষমতাসীন দল।
বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাহুল গান্ধীর আলিঙ্গনের ছবিও দেন তিনি। রাহুলের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে নিশিকান্ত দুবে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতাকে।
এর আগে বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল। কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে আলিঙ্গন করে তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে দেখা হলেই তাকে জড়িয়ে ধরা পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। এ সময় সন্দীপ দীক্ষিত রসিকতা করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ তোলেন।
জবাবে রাহুল বলেন, তিনি এতটা ভেবে আলিঙ্গন করেননি।এর পরই রাহুলের মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে রাহুল শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছেন। দলের নেতারা দাবি করেন, রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক করে দেখা ঠিক নয়।
রাহুল অবশ্য তার বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে না। দুটি দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের জাতীয় স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গেই তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।
রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইন্দিরা গান্ধী যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। একটি বৈঠক শেষে বেরিয়ে ইন্দিরা নাকি সোনিয়াকে বলেছিলেন, আমেরিকানরা তাকে বোকা ভাবছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, তিনি যে রঙের শাড়ি পরেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রীও সেই রঙের পোশাক পরেছিলেন।
রাহুলের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল, এ ধরনের আনুষ্ঠানিক সৌহার্দ্য দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় না।রাহুলের এই বক্তব্যের পর বিজেপি ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে আলিঙ্গনের ছবি সামনে এনে প্রশ্ন তুলেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীও সামাজিক মাধ্যমে রাহুলকে কটাক্ষ করে জানতে চেয়েছেন, তিনি কবে পরিণত হবেন।
অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নাম উঠে আসায় কংগ্রেসও কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী মেলোনির নাম নেননি। ওই নামটি তুলেছিলেন সন্দীপ দীক্ষিত।
বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইতালির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিবেচনাবোধ বজায় রেখে এই সম্পর্ক আরও জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
এর মধ্যেই রাহুল গান্ধীর জন্য আরও একটি রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। লোকসভায় সরকারি পরীক্ষায় কারচুপি প্রতিরোধ সংশোধিত বিল নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্পর্কে অসংসদীয় ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে তাকে নোটিস দিয়েছে সংসদের স্বাধিকার কমিটি।বিজেপি নেতা সঞ্জয় জয়সওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নোটিস দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে রাহুলের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
ফলে একদিকে মোদির বিদেশনীতি নিয়ে রাহুলের মন্তব্যের জবাবে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ, অন্যদিকে সংসদে মন্তব্য নিয়ে স্বাধিকার কমিটির নোটিস, দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছেন কংগ্রেস নেতা। আলিঙ্গন কূটনীতি নিয়ে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কে এবার টেনে আনা হয়েছে ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডকেও। বিষয়টি ঘিরে দিল্লির রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে কংগ্রেস ও বিজেপির বাকযুদ্ধ।


