‘বন্দেমাতরম’ গান নিয়ে বিজেপির নিশানায় কংগ্রেস
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
বিজেপির নিশানায় কংগ্রেস
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে দেশটির রাজনীতিতে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী।
কংগ্রেসের অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী গান থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে কংগ্রেসের জাতীয়তাবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ক্ষমতাসীন দল।
তবে বিজেপির এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে কংগ্রেস। দলটির দাবি, সোনিয়া গান্ধী গান থামানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের জন্য চেয়ার চাওয়ার সময় তিনি যে ইশারা করেছিলেন, বিজেপি সেটিকেই ভিন্ন অর্থে উপস্থাপন করছে।
বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার প্রধান অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন, ‘বন্দেমাতরম’ প্রথম কয়েকটি স্তবক অতিক্রম করার পরও গান চলতে থাকায় সোনিয়া গান্ধীকে অস্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। তার দাবি, স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি দেশাত্মবোধক গান নিয়ে কংগ্রেস নেত্রীর এমন আচরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজেপির আরও কয়েকজন নেতা বিষয়টি সামনে এনে কংগ্রেসের জাতীয়তাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ‘বন্দেমাতরম’-এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এই গান নিয়ে কোনো ধরনের আপত্তি বা তা থামানোর চেষ্টা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের প্রধান মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সদস্য জয়রাম রমেশ বলেন, কংগ্রেসের বিভিন্ন অধিবেশনে দীর্ঘদিন ধরেই ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রথম কয়েকটি স্তবক পরিবেশনের রীতি রয়েছে।
তবে এবারের অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সদর দফতরে পূর্ণাঙ্গ গানই পরিবেশন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। কংগ্রেসের বক্তব্য, ভিডিওর কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্যকে সামনে এনে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা করছে। সোনিয়া গান্ধীর ইশারা গান থামানোর জন্য ছিল না।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ‘বন্দেমাতরম’-এর দেড়শো বছর পূর্তি এবং ভারতের স্বাধীনতার আশিতম বর্ষ ঘিরে দেশজুড়ে জাতীয়তাবাদ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। ফলে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও দ্রুত জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।
