Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

এটি চালু হলেই শুরু হয় বিশ্বযুদ্ধ, আবার সচল সেই খনি

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০১ এএম

এটি চালু হলেই শুরু হয় বিশ্বযুদ্ধ, আবার সচল সেই খনি

ডলফিন মাইন/সংগৃহীত

Advertisement

অস্ট্রেলিয়ার একটি খনিতে আছে প্রচুর টাংস্টেন। এই ধাতু যুদ্ধের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন সেই খনি আবার চালু হচ্ছে। আর এটা ঘটছে ঠিক এমন সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে বড় বড় যুদ্ধ শুরু হচ্ছে।

কিং আইল্যান্ডে অবস্থিত এই খনির নাম ডলফিন মাইন। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় টাংস্টেনের ভাণ্ডার। টাংস্টেন একটি শক্ত ধাতু। এটি দিয়ে তৈরি হয় শক্তিশালী বর্ম-ভেদী গুলি ও সাঁজোয়া যানের বর্ম।

এই খনি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বারবার চালু ও বন্ধ হয়েছে। প্রতিবার যুদ্ধ এলেই খনিটি চালু হয়েছে, আবার শান্তি ফিরলে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বিনিয়োগকারীরা বড় লাভের আশায় খনিটির দিকে নজর দিচ্ছেন। কারণ তারা মনে করছেন সামনে টাংস্টেনের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির প্রয়োজনে ১৯১৭ সালে ডলফিন মাইন প্রথম চালু হয়। কিন্তু মাত্র তিন বছর পরই যুদ্ধ থেমে যায় এবং টাংস্টেনের বাজারে বড় পরিবর্তন আসে। ফলে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা শুরু হলে ১৯৩৮ সালে খনিটি আবার চালু হয়। এরপর কোরিয়া যুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও খনিটি কখনো বন্ধ, কখনো চালু হয়েছে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির প্রবণতা বাড়ায় খনিটি কিছুদিন সচল ছিল। কিন্তু ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার এক বছর পর খনিটি একরকম চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় বলেই মনে হয়েছিল।

এরপর প্রায় তিন দশক ধরে খনির খোলা গর্তে পানি জমে ছিল। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খনিটি আবার চালুর কাজ শুরু হয়। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান শুরু করেন।

এখন ২০২৬ সালে এসে খনিতে টাংস্টেন উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে। বর্তমান যুদ্ধগুলোর কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়াতেই এই উদ্যোগ। সেপ্টেম্বর মাসে মাটির নিচ থেকে প্রথম আকরিক তোলা ও সরবরাহের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এর পেছনে আরেকটি কারণও আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন চীনের চেয়ে বেশি হারে বিরল খনিজ সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কারণ বিশ্বের বেশিরভাগ টাংস্টেন উৎপাদন করে চীন।

চীন সম্প্রতি তার সামরিক শক্তি অনেক বাড়িয়েছে। তাইওয়ানকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে চীনের। এমনটা হলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় যুদ্ধ বেধে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন আগেই সতর্ক করেছিল যে চীন যথেষ্ট সামর্থ্য অর্জনের পর দশকের মধ্যেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রও এখন যুদ্ধের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাতু সংগ্রহের দৌড়ে যোগ দিয়েছে। সম্প্রতি তারা কাজাখস্তানে বিশ্বের অন্যতম বড় অব্যবহৃত টাংস্টেন ভাণ্ডার থেকে খনিজ তোলার জন্য ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এই টাংস্টেন। ইরানের সঙ্গে মাসের পর মাস যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই ঘাটতির কথা অস্বীকার করছে। তবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে। আর এই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর খনিতে বিনিয়োগ বেড়ে যাচ্ছে।

সূত্র- নিউইয়র্ক পোস্ট

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতার ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতার ঘোষণা

যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করল ওপেনএআই

যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করল ওপেনএআই

জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

বিদেশিদের জন্য আরও কঠিন হচ্ছে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা

অস্ট্রেলিয়া বিদেশিদের জন্য আরও কঠিন হচ্ছে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা

বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া

বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে কঠোর নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে কঠোর নিয়ম

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভ দিল্লি পুলিশ কর্তৃক ৩ নারী সাংবাদিককে যৌন হেনস্তার অভিযোগ

দিল্লি পুলিশ কর্তৃক ৩ নারী সাংবাদিককে যৌন হেনস্তার অভিযোগ

তেহরানের দেয়ালে দেয়ালে ট্রাম্পের ব্যঙ্গাত্মক ছবি

তেহরানের দেয়ালে দেয়ালে ট্রাম্পের ব্যঙ্গাত্মক ছবি

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় বিলিয়ন ডলারের তেল চুক্তি

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় বিলিয়ন ডলারের তেল চুক্তি

পিটিআইয়ের লংমার্চ ইসলামাবাদে ঢুকবে না, শেহবাজের উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি

পিটিআইয়ের লংমার্চ ইসলামাবাদে ঢুকবে না, শেহবাজের উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম