ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি-মেগান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর প্রায় ছয় বছর পর ব্রিটেনে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যারি-মেগান তাদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি (৭) ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে (৫) নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সন্তানদের সেখানেই স্কুলে ভর্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
হ্যারি ও মেগানের মুখপাত্র কিংবা বাকিংহাম প্যালেস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দম্পতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো সঠিক।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে ফিরলেও তারা কোনো রাজকীয় বাসভবনে থাকবেন না। ২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার সময় প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, সে অনুযায়ী তারা কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবেও ফিরছেন না।
হ্যারি ও মেগান ২০১৮ সালে উইন্ডসর ক্যাসেলে বিয়ে করেন। অভিনেত্রী মেগানের সঙ্গে হ্যারির বিয়েকে রাজপরিবারের জন্য ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে বিয়ের কিছুদিন পরই রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।
২০২০ সালের মার্চে তারা আনুষ্ঠানিক রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার কাছে অভিজাত এলাকা মন্টেসিটোতে বসতি গড়েন। ২০২০ সালে তাদের ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার দিয়ে ১৬ শয়নকক্ষের বাড়ি কেনার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার, নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র এবং হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’-এ তারা রাজপরিবার ও রাজতন্ত্রের সমালোচনা করেন।
২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মেগান দাবি করেন, রাজপরিবারের এক সদস্য তাদের ছেলে আর্চির গায়ের রং কতটা কালো হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তবে হ্যারির বড় ভাই ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম রাজপরিবার বর্ণবাদী—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন।
হ্যারি তার বাবা রাজা তৃতীয় চার্লস ও ভাই প্রিন্স উইলিয়ামকে নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেন। এর ফলে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক প্রায় পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
এদিকে, ব্রিটিশ সরকার হ্যারির নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরও তিনি ক্ষুব্ধ হন। তার দাবি ছিল, ব্রিটেনে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ায় তিনি সন্তানদের সেখানে নিয়ে যেতে নিরাপদ বোধ করতেন না।
এবার দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনা সেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


