পশ্চিমবঙ্গের ১৩ জেলায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ও প্রার্থনাসভায় বাধার অভিযোগ
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধর্মান্তকরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, প্রার্থনাসভায় বাধা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। গত মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাঁশকুড়া থেকে চন্দ্রকোনা, বারুইপুর থেকে উলুবেড়িয়া, এমনকি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরেও এ ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ১৩টি জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অন্তত ৬০টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি ঘটনায় প্রার্থনাসভা, ব্যক্তিগত বাড়ি, গির্জা ও ধর্মীয় জমায়েতে হামলা কিংবা বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাকি আটটি ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের স্থানীয় খ্রিস্টান পরিবারগুলো এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেখানকার বাসিন্দা শুভেন্দু বিশ্বাস বলেন,‘আমাদের মালদহ জেলায় আগে কখনো বাঙালি খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। আমরা আতঙ্কিত। নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করতেও এখন ভয় হচ্ছে।
সম্প্রতি অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তকরণের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা এ অভিযোগ তুললেও স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন।
মালদহের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রার্থনাসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।
পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার পশ্চিম অর্জুনদাত গ্রামেও প্রার্থনাসভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা অসীম মাইতি ও হলধর পাণ্ডার বক্তব্যেও এ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁদের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক খ্রিস্টান নারীকে মারধর এবং শুদ্ধিকরণের নামে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
বঙ্গ খ্রিস্টান কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা হেরড মল্লিকের অভিযোগ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।
তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। দলটির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। ধর্মান্তকরণের অভিযোগের বিষয়গুলোও আইনি পথেই মোকাবিলা করা হবে।

-6aea0c8201f0b.jpg)