ভারতে স্বর্ণের চাহিদা ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নামতে পারে
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বর্ণের উচ্চমূল্যের কারণে ২০২৬ সালে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। এতে গয়না বিক্রি কমার পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কেনার প্রবণতাও কমবে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি)।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতে স্বর্ণের মোট চাহিদা প্রায় ৬৫০ মেট্রিক টনে নেমে আসতে পারে। ২০২০ সালের পর দেশটিতে এটি হবে স্বর্ণের সর্বনিম্ন চাহিদা। করোনা মহামারির কারণে সে বছর গয়নার দোকান বন্ধ থাকায় স্বর্ণের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল।
বিশ্বে চীনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের ভোক্তা ভারত। তবে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশটির গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে গয়নার চাহিদা আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ডব্লিউজিসির ভারতীয় কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সচিন জৈন বলেন, বছরের প্রথম নয় মাসে গয়নার চাহিদা কমেছে। এর প্রভাব পড়বে পুরো বছরের স্বর্ণের বাজারে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ কমে ১৬২ দশমিক ৫ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে গয়না কেনার চাহিদা কমেছে ২০ শতাংশ এবং বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কেনা কমেছে ৪০ শতাংশ।
তবে ডিসেম্বর প্রান্তিকে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে বলে মনে করছে ডব্লিউজিসি। দীপাবলির মতো বড় উৎসব এবং বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বাড়ে। অক্টোবর মাসে দশেরা উদযাপন করেছে ভারতীয়রা। নভেম্বরের শুরুতে উদযাপিত হবে দীপাবলি। এ সময় স্বর্ণ কেনাকে অনেকেই শুভ বলে মনে করেন।
তবে উচ্চমূল্য এবং দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া চাপ চাহিদা বৃদ্ধির পথে বাধা হতে পারে বলে মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডব্লিউজিসি।
ভারতে স্বর্ণের মোট চাহিদার অর্ধেকের বেশি আসে গ্রামীণ এলাকা থেকে। এসব অঞ্চলে লাখো মানুষের কাছে স্বর্ণের গয়না সম্পদ সঞ্চয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী মাধ্যম। কিন্তু ২০২৬ সালে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়েছে দেশটিতে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ও কমেছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় স্বর্ণ কেনার সক্ষমতা কমতে পারে।
এদিকে চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভারতের স্বর্ণ আমদানিও কমেছে। ডব্লিউজিসির ভারতীয় কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী সচিন জৈন জানান, এর একটি কারণ হলো স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর পর অনানুষ্ঠানিক পথে স্বর্ণের প্রবেশ বেড়ে যাওয়া। চলতি বছরের মে মাসে সরকার মূল্যবান এই ধাতুর আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স
