সোনম ওয়াংচুকের স্কুলে ক্লাশ বন্ধের নোটিশ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই নতুন জটিলতায় পড়েছে জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অল্টারনেটিভস, লাদাখ (এইচআইএএল)। লেহতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করার অভিযোগে ক্লাশ বন্ধের নোটিশ দিয়েছে লাদাখ প্রশাসন।
লেহর তহসিলদারের জারি করা নোটিশটি পাঠানো হয়েছে ওয়াংচুকের স্ত্রী এবং এইচআইএএলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমোকে। নোটিশে তাকে ‘স্থিতাবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জমি বরাদ্দসংক্রান্ত যে মামলা জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টে বিচারাধীন, সেটির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, এইচআইএএলের আওতাধীন ফিয়াংয়ে ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের পরিচালনা কমিটির প্রস্তাবিত সদস্যদের জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর লেহর ডেপুটি কমিশনারের কাছে আবেদন করেছিলেন অ্যাংমো। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সম্মতি বা অনুমোদন পাওয়ার আগেই স্কুলটিতে ক্লাশ ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ প্রশাসনের।
নোটিশে বলা হয়েছে, আদালত মামলার নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্কুলের কার্যক্রম চালু কিংবা নতুন কোনো কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে পদক্ষেপ না নিতে অ্যাংমোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কী বলা হয়েছে নোটিশে
এইচআইএএলকে বরাদ্দ দেওয়া জমি নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের সঙ্গে স্কুলের কার্যক্রমের বিষয়টি যুক্ত করেছে লাদাখ প্রশাসন। আদালতে বিচারাধীন মামলার ওপর প্রভাব পড়তে পারে, এমন কোনো কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
২০১৮ সালের মে মাসে লাদাখের ফিয়াং থাং এলাকায় ১ হাজার ৭৬ কানাল ও ১ মারলা জমি এইচআইএএলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। হিমালয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়নভিত্তিক একটি বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ৪০ বছরের জন্য জমিটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে এর সঙ্গে কয়েকটি শর্তও যুক্ত করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের ২১ আগস্ট লাদাখ প্রশাসন ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ইজারাসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেনি এবং যে উদ্দেশ্যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেনি।
এরপর সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এইচআইএএল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মামলার শুনানির সময় বিরোধপূর্ণ জমিতে তৃতীয় পক্ষের স্বত্ব বা অধিকার সৃষ্টি না করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন আদালত। তবে অন্তর্বর্তী ওই আদেশে জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়নি।
কেন জমি বরাদ্দ বাতিল করেছিল প্রশাসন
অক্টোবরে ১৩৬ পৃষ্ঠার একটি হলফনামার মাধ্যমে জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে লাদাখ প্রশাসন। তাদের দাবি, ইজারার দলিল সম্পাদন এবং নির্ধারিত ভূমিমূল্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এক বছরের মধ্যে পূরণ না করায় ২০১৯ সালের মে মাসেই জমি বরাদ্দের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের অক্টোবরে লাদাখের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের একটি প্রত্যয়নপত্রের কথাও উল্লেখ করেছে প্রশাসন। সেখানে বলা হয়েছে, এইচআইএএল স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয় এবং প্রতিষ্ঠানটির কোর্সগুলোরও আইনগত অধিভুক্তি নেই।
তবে প্রশাসনের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাংমোর বক্তব্য, ২০১৮ সালের ২০ মে—জমি বরাদ্দের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে—ইজারার দলিল সম্পাদনের জন্য আবেদন করেছিল এইচআইএএল। এরপরও বিষয়টি এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুকও ইজারার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, এ বিষয়ে তিনি পাঁচটি লিখিত আবেদন করেছেন, ১৫ বার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গেছেন এবং ৩০ বার ফোন করেছেন।
ওয়াংচুক আরও বলেন, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া একটি সরকারি চিঠিতে লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরের সময়কার প্রশাসনিক জটিলতা এবং করোনা মহামারির কারণে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল। ওই চিঠিতে ইজারার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তার।
জমি নিয়ে বিরোধের আড়ালে লাদাখে নিজের আন্দোলন ও কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওয়াংচুক। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, জমি বরাদ্দের শর্ত পূরণ না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
