Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে ভাষণে দেশের নাম বদলানোর ঘোষণা ওশেনিয়ান এই দেশের

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

জাতিসংঘে ভাষণে দেশের নাম বদলানোর ঘোষণা ওশেনিয়ান এই দেশের

সংগৃহীত

Advertisement

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজের দেশের নাম বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন ওশেনিয়ান দেশ নাউরুর প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং। তিনি জানান, এখন থেকে তার দেশ পরিচিত হবে নাওয়েরো নামে।

উত্তরাধিকার ফিরিয়ে আনার প্রয়াস হিসেবে এই পদক্ষেপকে তুলে ধরেন আদিয়াং। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য নিজেদের মধ্যে সবসময় ব্যবহার করা একটি নাম পুনরুদ্ধার করা।

তার এই ঘোষণায় দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি গত এক শতাব্দীতে নাম পরিবর্তন করা বা সংশোধন করা বেশ কয়েকটি দেশের কাতারে যুক্ত হলো। আদিয়াং বলেন, এই পরিবর্তন অতীতের সঙ্গে বিচ্ছেদ নয়, বরং নিজেদের পরিচয়কে পুনরায় নিশ্চিত করা। ভাষণের শেষে তিনি সরাসরি আহ্বান জানান, ‘আমাদের নাম উচ্চারণ করো।’

মঙ্গলবার এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার আগে আদিয়াং বলেন, ‘আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। একটি জাতির জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন তার জনগণকে স্মরণ করতে বলা হয় তারা আসলে সবসময় কারা ছিল। আমাদের জন্য এখন সেই মুহূর্তই এসেছে।’ 

যদিও নাউরু এবং নাওয়েরো মূলত একই শব্দ, তারপরও বানান এবং উচ্চারণের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরে বিশ্ব আমাদের দেশকে নাউরু নামে চিনেছে। যাদের কাছে এই নাম উচ্চারণ করা কঠিন ছিল, তাদের কাছে এটাই ছিল আমাদের নামের শোনার ধরন, আর বিশ্ব সেটাই ধরে রেখেছে। কিন্তু এটা আমাদের নিজেদের মধ্যে ব্যবহার করা নাম নয়।’

আট বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপরাষ্ট্রে বসবাস করে প্রায় বারো হাজার মানুষ। যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং জার্মানির ঔপনিবেশিক শাসনের পর ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। 

ফেব্রুয়ারিতে ইঙ্গিত দেওয়ার পর আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় তারা। দেশটির আন্তর্জাতিক কোড এনআরইউ থেকে বদলে এনআরও হচ্ছে। আর দেশটির নাগরিকরা এখন থেকে নাউরুয়ান নয়, বরং পরিচিত হবেন দেই-নাওয়েরো নামে। বিদেশে সাধারণত ‘নাও-রু’ উচ্চারিত হলেও দেশটির নতুন নাম উচ্চারিত হবে ‘নাও-এরো’ হিসেবে।

আধুনিকায়ন এবং ঔপনিবেশিক যুগের পরিচয় প্রত্যাখ্যানসহ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন দেশ নাম পরিবর্তনের যে বিস্তৃত প্রবণতা দেখিয়েছে, আদিয়াংয়ের এই মন্তব্যেও তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। 

২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড থেকে নাম বদলে এসোয়াতিনি হয়। ১৯৭৫ সালের এক অভ্যুত্থানের পর দাহোমি হয়ে ওঠে বেনিন। ১৯৮০ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে রোডেশিয়া হয়ে ওঠে জিম্বাবুয়ে। ১৯৩৯ সালে সিয়াম হয়ে ওঠে থাইল্যান্ড। ১৯২০ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই নামে পরিচিত হলেও ২০২২ সালে জাতিসংঘকে ইংরেজিতেও একই বানান এবং উচ্চারণ ব্যবহারের অনুরোধ জানায় তুর্কিয়ে। পারস্য হয়ে ওঠে ইরান, বার্মা হয়ে ওঠে মিয়ানমার, আপার ভোল্টা হয়ে ওঠে বুরকিনা ফাসো, গোল্ড কোস্ট হয়ে ওঠে ঘানা এবং সিলন হয়ে ওঠে শ্রীলঙ্কা।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম