Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সের ওপর দিয়ে ম্যানহাটন: পরোয়ানা জারির পরও কেন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হলো না?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২ পিএম

ফ্রান্সের ওপর দিয়ে ম্যানহাটন: পরোয়ানা জারির পরও কেন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হলো না?

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

Advertisement

গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথার ওপর ঝুললেও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সংক্ষিপ্ত সফর করে গেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে তিনি সেখানে অবশ্য আট ঘণ্টারও কম সময় অবস্থান করেন। 

এই সফরে তিনি এমন তিনটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী যাদের তাকে গ্রেফতার করার কথা ছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বিমানটি গ্রিস, ইতালি ও ফ্রান্সের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। এই তিনটি দেশই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি-র সদস্য এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের দেশে কোনো পরোয়ানাভুক্ত আসামি প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতার করার কথা। 

তবে ফ্রান্স জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে কোনো নিয়ম ভাঙা হয়নি। কারণ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে আকাশপথের ট্রানজিটের ক্ষেত্রে এমন কোনো পরিষ্কার নিয়ম নেই। 

অন্যদিকে, নিউইয়র্কের মেয়র, যিনি আগে কথা দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু এলে তাকে গ্রেফতার করবেন, তিনি পরে জানান যে তাকে গ্রেফতার করার কোনো আইনি ক্ষমতা তার নেই। 

নিউইয়র্কে পৌঁছেই জাতিসংঘের মঞ্চে বেশ আক্রমণাত্মক ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। গাজায় চলমান যুদ্ধ ও গণহত্যার অভিযোগকে তিনি ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন। অবশ্য তার ভাষণের সময় অনেক দেশের প্রতিনিধি প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু তাদের উদ্দেশে ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন। 

আইসিসির পরোয়ানা ও ইসরাইলের অবস্থান

২০২৩ সালের ০৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সেখানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে। এর ভিত্তিতে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। গাজায় খাদ্য সংকট তৈরি এবং বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

তবে ইসরাইল এই আদালতকে মানে না এবং শুরু থেকেই পরোয়ানাটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে। যেহেতু আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই, তাই সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার জন্য তাদের সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়। 

এদিকে, ইসরাইলের সবথেকে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়টি ঘিরে আইসিসির উপর বরাবরের মতো চাপ বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই আদালতের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। 

ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসিকে ‘দুর্বৃত্ত প্রতিষ্ঠান’ আখ্যা দিয়ে এর কর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশকে এই আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এর বিপরীতে ইউরোপীয় দেশগুলো আইসিসির পক্ষেই জোরালো অবস্থান নিয়েছে। 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম