Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে ভাষণ

নেতানিয়াহুর সামনে সোলাইমানির ছবি রেখে বেরিয়ে গেলেন ইরানি নেতারা

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

নেতানিয়াহুর সামনে সোলাইমানির ছবি রেখে বেরিয়ে গেলেন ইরানি নেতারা

ছবি: এএফপি

Advertisement

কূটনীতির মারপ্যাঁচ আর রাজনীতির অলিন্দে অনেক প্রথাসিদ্ধ ভাষণের সাক্ষ্য বহন করে জাতিসংঘের এই ঐতিহাসিক কক্ষ। কিন্তু নিউ ইয়র্কের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে যা ঘটে গেল, তা কেবল বিতর্ক নয় এক নিঃশব্দ, অথচ বজ্রনির্ঘোষ নাটকের কাব্যিক বহিঃপ্রকাশ।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখনই পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্য শুরু করতে গেলেন, তখনই সম্মেলন কক্ষে নেমে এলো এক অদ্ভুত শীতলতা। একযোগে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন ইরানসহ বহু দেশের প্রতিনিধিরা। তারা হেঁটে বের হয়ে গেলেন বটে, কিন্তু প্রতিবাদের আগুন রেখে গেলেন নিজেদের খালি টেবিলে।

ইরানি প্রতিনিধি দলের বরাদ্দকৃত ফাঁকা ডেস্কে প্রদীপ হয়ে জ্বলে রইল একটি ছবি, কুদস ফোর্সের প্রয়াত প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানির প্রতিকৃতি। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এই জেনারেল। তার সেই স্মৃতি আর চোখ দুটিকেই যেন নেতানিয়াহুর চোখের সামনে প্রতিবাদের ঢাল বানিয়ে রেখে গেল ইরান। প্রস্থানকর্মে যোগ হলো হুঙ্কার ও ক্ষুব্ধ স্লোগান, আর ঠিক তার বিপরীতে ইসরাইলি সহযোগীদের করতালি, সব মিলিয়ে কক্ষে তৈরি হলো এক চরম বৈপরীত্য।

এই দৃশ্য দেখে নিজের আক্রোশ গোপন রাখেননি নেতানিয়াহু। তপ্ত কণ্ঠে হুঙ্কার ছেড়ে বের হয়ে যাওয়াদের উদ্দেশ্যে তিনি ছুড়ে দেন শব্দবাণ, এই হলে যদি আর কোনো কাপুরুষ থেকে থাকেন, তবে দয়া করে আপনারাও এখনই বের হয়ে যান।

ভাষণজুড়ে নেতানিয়াহুর কণ্ঠ থেকে ঝরে পড়েছে শুধুই আক্রমণ ও প্রতিরোধ। ইরানকে ‘হত্যাকারী স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপেই থমকে গেছে ইরানের পারমাণবিক স্বপ্ন। তার এই বাক্যবাণের আঁচ লেগেছে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের গায়েও। মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আর এরদোয়ানকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালেন।

কূটনীতির বন্দি দেয়াল পেরিয়ে প্রতিবাদের এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল বাইরের রাজপথেও। গাজায় গণহত্যা বন্ধের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নিউ ইয়র্কের সড়ক। শান্তির দাবিতে সরব হতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে হয় খ্যাতিমান হলিউড অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনসহ বহু বিক্ষোভকারীকে। 

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ভিসা না দেওয়ায় স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস; নেতানিয়াহুর আসার ঠিক আগে এক ভিডিও বার্তায় ভেসে ওঠে তার আবেগঘন কণ্ঠস্বর।

আগামী ২৭ অক্টোবরের কঠিন নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতানিয়াহু এখন চরম অনিশ্চয়তায়। জাতিসংঘে প্রতিবাদের এই ঝোড়ো বাতাস আর উত্তপ্ত স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই এখন দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইসরাইলের এই বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম