মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, সেই নারীর সর্বশেষ অবস্থা সর্ম্পকে যা জানা গেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা বা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে তিনি জীবিত আছেন বলে নিশ্চিত করেন আইনজীবী।
৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত বুধবার টেনেসির কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়।
পাইকের আইনজীবীদের দাবি, তাকে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আইনজীবী স্পাইভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের শরীরে আইভি লাইন স্থাপনের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার বাম হাতে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে একটি সূঁচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিট পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন বলে জানান স্পাইভি। তার ভাষ্য, এ সময় পর্যবেক্ষকদের একটি বন্ধ পর্দার আড়ালে রাখা হয়। পর্দার পেছনে চিকিৎসা সহায়তা কখন শুরু হয়েছিল, তা তারা জানতে পারেননি।
ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আরও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ হবে এবং এতে সময় লাগবে।
গভর্নর একই সঙ্গে চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য রাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। এই স্থগিতাদেশের আওতায় ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও পড়ছে।
তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় রাজ্যের আইনসম্মত ও অনুমোদিত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়াও ওই প্রোটোকলের অংশ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
টেনেসি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও ঘটনার তদন্তের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, কী ঘটেছিল তা জানা প্রয়োজন।
এটি ২০২৬ সালে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। তার শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের জন্য শিরা খুঁজে না পাওয়ায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
