পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা
মার্কিন ডাক বিভাগে ১২৬ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনলাইনে ভুয়া ডাক লেবেল বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগকে (ইউএসপিএস) ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি করার অভিযোগে পাকিস্তানের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়স ৩৩ বছর এবং তিনি পাকিস্তানের খানেওয়ালের বাসিন্দা।
মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের বরাতে ডন জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি একটি অননুমোদিত ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের জাল ডাক লেবেল বিক্রি করা হতো।
তদন্তে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে ৫০ লাখের বেশি ভুয়া শিপিং লেবেল বিক্রি করা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, এসব লেবেল সাধারণত প্রতিটি ২ ডলারে বিক্রি করা হতো। অথচ প্যাকেটের আকার, ওজন ও গন্তব্যের ওপর নির্ভর করে বৈধ ডাকমাশুল নির্ধারিত হয়। কিন্তু ভুয়া লেবেলের ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিবেচনা না করে একই দাম নেওয়া হতো।
এর ফলে ক্রেতারা বৈধ ডাকমাশুলের তুলনায় অনেক কম খরচে পণ্য পাঠানোর সুযোগ পেতেন। মার্কিন তদন্তকারীদের হিসাবে, ৫ হাজার ২০০ জনের বেশি ব্যক্তি ওই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ৫১ লাখের বেশি ভুয়া শিপিং লেবেল কিনেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ইউএসপিএসের ক্ষতির পরিমাণ ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি।
সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ফ্লোরিডার মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনেস বলেন, মার্কিন ডাক পরিদর্শন সেবা ও প্রসিকিউটরদের তদন্তের পর ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর ডোমেইন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণা ও জাল ডাকটিকিট তৈরির ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ, জাল ডাক লেবেল তৈরি ও বিক্রির পাঁচটি অভিযোগ এবং তারবার্তার মাধ্যমে প্রতারণার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
দোষী সাব্যস্ত হলে ষড়যন্ত্র ও জাল ডাকটিকিট বিক্রির অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং তারবার্তার মাধ্যমে প্রতারণার প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

