ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ‘কুড়াল দিয়ে আঘাত করেছিলেন কো-পাইলট’
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্লাই দুবাইয়ের দখলদার ইসরাইলগামী একটি ফ্লাইটে ক্যাপ্টেনকে কুড়াল দিয়ে হামলা করে উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন সহ-পাইলট। ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রসিকিউশন।
গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেট১০৭৩ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজটিতে ১৮২ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। হামলার পর বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কিছু বেশি সময়ে ১৬ হাজার ৬২৫ ফুট নিচে নেমে যায়। তীব্র অবতরণের সময় উড়োজাহাজটির রাডারের একটি অংশও ছিঁড়ে যায়।
ইউএইর প্রসিকিউটর জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি শনিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএমকে বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, সহ-পাইলট সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। হামলায় তিনি ককপিটে থাকা ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ বা জরুরি কুড়াল ব্যবহার করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, হামলাকারী বাইরে থেকে কোনো অস্ত্র বিমানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তদন্তে জানা গেছে, ব্যবহৃত কুড়ালটি ককপিটেই জরুরি পরিস্থিতির জন্য রাখা ছিল। ফলে সেটি গোপনে বিমানে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সহ-পাইলটের নাম হাম্মাম আল-হাম্মামি এবং তাকে ওমানের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গালফ অঞ্চলের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, তিনি একাই হামলা চালিয়েছিলেন কিনা, নাকি কোনো উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থি মতাদর্শে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ওমান কর্তৃপক্ষ ওই সহ-পাইলটকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল। পরে তাকে ওমান এয়ারে প্রশাসনিক দায়িত্বে দেওয়া হয়। এরপর তিনি ইউএইভিত্তিক স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পান।
তবে ফ্লাইদুবাইয়ে নিয়োগের সময় তার অতীত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য কতটা যাচাই করা হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি বিমান খাতে নিয়োগের সময় নিরাপত্তা যাচাই নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
হামলার সময় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা ভেতর থেকে খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে বিমানে থাকা দুই অতিরিক্ত পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং নিরাপদে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করান। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে বিমানটি সেখানে নামে।
ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তাকে ‘বিশ্বের নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঘটনার পর ফ্লাই দুবাইয়ের দুবাই-তেল আবিব রুটের সব ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তদন্তে ইউএইর পাশাপাশি ইসরাইলের কয়েকটি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাও কাজ করছে।
