সুদানের গৃহযুদ্ধে ভাড়াটে সেনা পাঠাচ্ছে আমিরাত, বেরোল চাঞ্চল্যকর তথ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
সুদানের গৃহযুদ্ধে মদদ দিচ্ছে আমিরাত। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) হয়ে লড়াই করতে ভাড়াটে সেনা পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। জাতিসংঘের তদন্তকারীদের একটি গোপন প্রতিবেদনে এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের হাতে আসা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সিকিউরিটি সার্ভিসেস গ্রুপ (জিএসএসজি) কলম্বীয় ভাড়াটে সেনাদের লিবিয়া, সোমালিয়া ও চাদ হয়ে সুদানে পাঠিয়েছে। এসব দেশে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের বসাসো শহরে অবস্থিত পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের (পিএমপিএফ) ঘাঁটি কলম্বীয় সেনাদের যাতায়াত ও প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আমিরাতের সামরিক বাহিনী ওই বাহিনীকে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও তদারকি করেছে।
জাতিসংঘের তদন্তকারীদের দাবি, আমিরাতের আবুধাবি, ঘায়াথি ও আল-ওয়াথবাহ এবং সোমালিয়ার বসাসো ঘাঁটিতে এসব ভাড়াটে সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে তাদের সুদানে মোতায়েন করা হয়।
সুদানের দারফুর অঞ্চলে আরএসএফের সামরিক অভিযানে এসব সেনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের অবরোধ ও দখলের অভিযানে তারা অংশ নেন। ড্রোন পরিচালনা, গোলন্দাজ সহায়তা ও পদাতিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করার দায়িত্ব পালন করেন তারা।
গত বছরের অক্টোবরে ৫০০ দিনের বেশি অবরোধের পর এল-ফাশের দখল করে আরএসএফ। ওই অভিযানের সময় বাহিনীটির বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
তবে সুদানের সংঘাতে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আমিরাত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভাড়াটে সেনা সংশ্লিষ্ট অভিযোগকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
এদিকে, আমিরাতের শীর্ষ কূটনীতিক লানা নুসেইবেহ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদানে আরএসএফকে আমিরাতের সমর্থনের অভিযোগ তার প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত সুদানের রাষ্ট্রদূত বাবিকার আল-সিদ্দিক আল-আমিন বলেছেন, সুদানের মানুষের রক্ত যাদের হাতে, তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত নয়। নুসেইবেহ জাতিসংঘের মহাসচিব হলে সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে, নুসেইবেহ দাবি করেছেন, আরএসএফের সংঘটিত নৃশংসতার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কার্যক্রমকেও তিনি সমর্থন করবেন।
প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হলেও গোপন রাখা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের আরেকটি প্রতিবেদনে সুদানের যুদ্ধে আরএসএফকে আমিরাতের ভাড়াটে সেনা সরবরাহের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাহরাইন কয়েক মাস ধরে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ আটকে রেখেছে।

