এবার ইসরাইলকে কঠোর বার্তা সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সোমালিয়ায় ইসরাইলের কোনো উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সোমালিয়াকে জড়ানোর যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে মোহামুদ বলেন, ইসরাইল সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিতর্কিত অঞ্চল সোমালিল্যান্ডের বারবেরা শহরে একটি নৌঘাঁটি স্থাপন এবং সেখানকার বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই আমরা ইসরাইলের উপস্থিতি মেনে নেব না।’ ইসরাইলের এমন উদ্যোগের বিরুদ্ধে সোমালিয়া প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও জানান তিনি।
বারবেরা এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। ইয়েমেনের বিপরীত দিকে অবস্থিত শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
মোহামুদের দাবি, বারবেরায় ইসরায়েলের উপস্থিতির মূল লক্ষ্য শুধু সামরিক ঘাঁটি স্থাপন নয়; এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোও ইসরাইলের উদ্দেশ্য।
তিনি ইসরাইলের এসব পরিকল্পনাকে ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার অভিযোগ, ইসরাইল একটি অস্থিতিশীল শক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে না।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরাইলের সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া সোমালিল্যান্ডকে দীর্ঘদিন কোনো জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি। তবে ইসরাইল গত বছর অঞ্চলটিকে স্বীকৃতি দেয়। সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এখনো অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।
মোহামুদ বলেন, সোমালিল্যান্ডের স্থানীয় জনগণও ইসরাইলের উপস্থিতির বিরোধিতা করছে। ইসরায়েলের পদক্ষেপের কারণে সোমালিয়ার সামনে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করা হবে।
সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সোমালিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তার দাবি, আল-শাবাব বর্তমানে সোমালিয়ার বড় শহরগুলোতে উপস্থিত নেই এবং দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো অবস্থায়ও নেই।
প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন মোহামুদ। তিনি বলেন, সোমালিয়ার বন্দর ব্যবহার করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইথিওপিয়াকে সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সোমালিয়ার আপত্তি নেই।
তবে ২০২৪ সালে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সমুদ্রপথ ব্যবহারের বিষয়ে ইথিওপিয়ার চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সোমালিয়া তখন ওই চুক্তিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথিদেরও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেন মোহামুদ। তার অভিযোগ, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুতিদের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
