ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে সেদিন কী ঘটেছিল, জানাল আমিরাত
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটটি ইসরাইলে যাচ্ছিল। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ককপিটে পাইলটের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ইউএইর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম জানায়, ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে থাকা সহকারী পাইলট ককপিটে বিমানের প্রধান পাইলটকে ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়ে হামলা করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, হামলার উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি পরীক্ষা এবং শারীরিক ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণও চলছে। তদন্ত শেষ হলে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বিমানটি। ফ্লাইটটিতে ১৮২ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। উড্ডয়নের পর ককপিটে হামলার ঘটনায় বিমানটি হঠাৎ ব্যাপক উচ্চতা হারায়। যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর একজন রিজার্ভ পাইলট বিমানের দায়িত্ব নেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
হামলায় আহত প্রধান পাইলট ছিলেন ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্ছার। ঘটনার পর তাকে চিকিৎসার জন্য আমিরাতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। শনিবার দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমও তার সঙ্গে দেখা করে সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
সহকারী পাইলটের পরিচয় ইউএই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও রয়টার্সের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি ওমানের নাগরিক হামাম আল-হামামি। তার অতীত পেশাগত কর্মকাণ্ড ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়েও তদন্ত চলছে।
তদন্তকারীরা এখন বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন—তিনি একাই এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল। আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

