‘আমেরিকান আইডল’-এর সাবেক প্রতিযোগীর যাবজ্জীবন
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘আমেরিকান আইডল’-এর সাবেক এক প্রতিযোগীকে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে প্যারোল বা মুক্তির সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চল্লিশ বছর বয়সি ক্যালেব ফ্লিন গত সপ্তাহে জুরি বোর্ডের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। জুরি বোর্ড তার সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে কোনো এক আগন্তুক তাদের ওহাইওর বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার স্ত্রী অ্যাশলে ফ্লিনকে গুলি করে হত্যা করেছে।
স্ত্রীকে হত্যা ছাড়াও গুরুতর খুন এবং আলামত গোপনের মতো আরও আটটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
গত সোমবার সাজা ঘোষণার শুনানির সময় আদালতে তার দুই মেয়ের লেখা চিঠি পড়ে শোনানো হয়। মেয়ে দুটি বাবাকে তাদের অপরাধ স্বীকার করার আকুতি জানায় এবং প্রশ্ন তোলে কেন তিনি তাদের মাকে হত্যা করলেন।
ক্য্যালেব ফ্লিন একসময়ের সংগীত যাজক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ৩৭ বছর বয়সি শিক্ষক স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর ঘরের গ্যারেজের দরজা খোলা রেখে বাইরে থেকে কেউ ঢুকেছে—এমন একটি নাটকীয় পরিস্থিতি সাজান তিনি।
ফ্লিন দাবি করেছিলেন, গভীর রাতে গুলির শব্দ শুনে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং পরে গ্যারেজের দরজা খোলা পেয়ে বিছানায় স্ত্রীর মৃতদেহ দেখতে পান। ঘটনার সময় তাদের ৯ ও ১১ বছর বয়সি দুই সন্তানও বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল।
নিহত অ্যাশলের বোন কায়লা কেইট আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড মেয়েদের মনে তাদের খ্রিস্টধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অনীহা তৈরি করেছে এবং ‘যে পরিবার আপনাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিল, আপনি তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছেন’।
মেয়েদের একজনের চিঠিতে লেখা ছিল, ‘প্রিয় বাবা, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না কোত্থেকে শুরু করব। আপনি এমন একটা কাজ কীভাবে করতে পারলেন?’
সে আরও লেখে, ‘মা ছিলেন নিখুঁত একজন মানুষ... আর আপনি আমার জীবনের একমাত্র মাকে বেছে নিলেন কেড়ে নেওয়ার জন্য।’
অন্য মেয়ের চিঠিটি ‘প্রিয় বাবা’ সম্বোধনের বদলে শুরু হয়েছিল ‘প্রিয় ক্যালেব’ দিয়ে। সে বাবাকে উদ্দেশ করে বলে, ‘আপনি আসলে কী করেছেন, সবাইকে তা জানান এবং তার পরিণতি মাথা পেতে নিন।’
সন্তানদের এসব চিঠি পড়ার সময় আদালতে উচ্চস্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফ্লিন।
শুনানিতে ফ্লিন নিজেও একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে তিনি পরিবারের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন, নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই তার ভুল ‘সিদ্ধান্তগুলোর’ জন্য ক্ষমা চান এবং আবারও দাবি করেন যে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেননি।
আদালতে তিনি বলেন, ‘বিয়েতে আমি অ্যাশলেকে কথা দিয়েছিলাম। আমি সেই কথা রাখতে পারিনি।’
বিচারক জেনিন প্র্যাট রায় ঘোষণার সময় ফ্লিনকে সমাজের জন্য ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

