কৃষ্ণসাগরে জাহাজে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত ২
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
কৃষ্ণসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃষ্ণসাগরে রুশ ড্রোন হামলায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি ডুবে গেছে। এতে দুজন নিহত হয়েছেন। জাহাজটির ১১ জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ। খবর এনডিটিভির
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, নিরপেক্ষ জলসীমায় তুরস্কের মালিকানাধীন একটি বেসামরিক জাহাজে দুটি রুশ ড্রোন ভয়াবহ হামলা চালায়। জাহাজটি ভুট্টা বহন করছিল।
তবে এ ঘটনায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানো হয়। জাহাজটি রোমানিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে ছিল। এটি তুলচা কাউন্টির স্ফানতুল জর্জ থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল বা ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি। তবে রোমানিয়ার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তুরস্কের একটি শস্যবাহী জাহাজ কৃষ্ণসাগরের একটি তেল প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ-পূর্বে ড্রোন হামলার শিকার হয়। অবশ্য কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি।
রোমানিয়ার নৌ কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘রোয়াদ মাম্মাদভ’ নামের একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, এটি সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী একটি সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ। ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দর থেকে ছেড়ে জাহাজটির ইতালি যাওয়ার কথা ছিল।
রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাহাজটির ১১ জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে দুজনের মরদেহও পাওয়া যায়। আহত কয়েকজনকে হেলিকপ্টারে করে জরুরি চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকরা ছিলেন। জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন ক্রুর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, কৃষ্ণসাগরে উত্তেজনা কমানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেন বারবার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে। তৃতীয় কয়েকটি দেশও এ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু রাশিয়া স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচলের পরিবর্তে সন্ত্রাস ও বেসামরিক জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এর আগে গত মাসে কৃষ্ণসাগরে নেপচুন ডিপ গ্যাস প্ল্যাটফর্মের কাছে বিস্ফোরক বহনকারী একটি নৌড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর সেটি ধ্বংস করতে রোমানিয়া দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির নৌবাহিনী কৃষ্ণসাগরে ভেসে থাকা নয়টি সমুদ্র মাইন ধ্বংস করেছে।


-6ac266c843814.jpg)