ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, হাইস্কুল বন্ধ ঘোষণা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার ও স্কুলগুলোর অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে দেশটির সব হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় বেশ কয়েকটি হাইস্কুল অবরোধ করা হয়। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হলে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরাও রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তবে আয়োজকদের দাবি, শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মী মিলিয়ে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার হাইস্কুল মঙ্গলবার অবরুদ্ধ বা বন্ধ ছিল।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে ফ্রান্সের স্কুলগুলোতে শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট এবং জরাজীর্ণ ভবনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ, দুপুরের বিরতি বাড়ানো এবং স্কুলের দৈনিক সময়সূচিতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারিস, মার্সেই, নঁত, লিয়ন, স্ট্রাসবুর্গ ও রেনসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। স্ট্রাসবুর্গ, লিয়ন ও রেনে পরিস্থিতি একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালিয়ে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, স্কুলে আগুন দেওয়া বা সহিংসতা চালানো কোনোভাবেই স্কুল ভবনের দুরবস্থা দূর করতে পারে না। তিনি চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের বিষয়টিও সরকার পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো পূরণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফ্রান্স বর্তমানে বড় ধরনের ঋণ ও বাজেট সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই ১৮ বছরের নিচে। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ২১৫ জন কিশোর এবং ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় লঁস শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত উড়ে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিক্ষোভের মধ্যে ওই কিশোর একটি পুলিশের গ্রেনেড তুলে নেওয়ার পর বিস্ফোরণে তার হাত ও বাহুর একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এদিকে ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই ফ্রান্সের পরিস্থিতির জন্য ব্যাপক অভিবাসন ও ইসলামকে দায়ী করেন। তার মন্তব্যকে ফ্রান্সের শিক্ষাবিষয়ক আন্দোলনের প্রকৃত কারণ থেকে দৃষ্টি সরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন অনেকে।
ফ্রান্সে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে রাজধানী প্যারিসের দরিদ্র উপশহরগুলোতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পাশাপাশি কৃষক ও জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনও আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে।

-6ac527572b9b8.jpg)