ভারতের প্রখ্যাত আলেম-সাহিত্যিক মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমির ইন্তেকাল
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রখ্যাত আলেম, আরবি ভাষা ও সাহিত্যের বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা লখনৌর প্রিন্সিপাল মাওলানা ড. সাঈদুর রহমান আজমি নদভী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকালে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় তার মৃত্যু হয়। যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাদওয়াতুল উলামা লখনৌর সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ইসতেফাউল হাসান।
ড. সাঈদুর রহমান আজমির ইন্তেকালে ভারতসহ উপমহাদেশের ধর্মীয়, শিক্ষা ও সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলেম, শিক্ষক, লেখক, শিক্ষার্থী ও তার অসংখ্য গুণগ্রাহী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মাওলানা ড. সাঈদুর রহমান আজমি নদভী ১৯৩৫ সালের ১৪ মে ভারতের উত্তর প্রদেশের মউ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা মুহাম্মদ আইয়ুব আজমি ছিলেন বিশিষ্ট আলেম ও মুহাদ্দিস।
১৯৫২ সালে তিনি দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন। সেখানে মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী হাসানি নদভী (রহ.)-সহ তৎকালীন প্রখ্যাত আলেমদের সান্নিধ্যে শিক্ষা লাভ করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য বাগদাদেও যান এবং বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদ ড. তাকিউদ্দিন হিলালির কাছে অধ্যয়ন করেন।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি নাদওয়াতুল উলামায় আরবি ভাষা ও সাহিত্য পড়িয়েছেন। ১৯৯২ সালে আরবি ভাষা ও সাহিত্য অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পান এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামার প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
আরবি ভাষা-সাহিত্যে অবদান
মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আরবি ভাষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল লেখালেখি ও সাংবাদিকতা।
নাদওয়াতুল উলামার আরবি মাসিক পত্রিকা ‘আল-বায়সুল ইসলামী’র সঙ্গে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি যুক্ত ছিলেন। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠায়ও তার ভূমিকা ছিল। পরে তিনি এর প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নাদওয়াতুল উলামার নিজস্ব ওয়েবসাইটেও তাকে পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইসলামি চিন্তা ও সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ে তার অসংখ্য প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার অবদান নিয়ে একাধিক গবেষণা ও পিএইচডি পর্যায়ের কাজও হয়েছে।
সম্মাননা
দীর্ঘ শিক্ষা, গবেষণা ও দ্বীনি সেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন। ২০১৩ সালে নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব অবজেক্টিভ স্টাডিজ তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে।
২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তার ইন্তেকালে ভারত ও উপমহাদেশের ধর্মীয়, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলেম, শিক্ষক, লেখক ও শিক্ষার্থীরা তার ইলমি ও সাহিত্যিক অবদানের কথা স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেছেন।
