কেঁদে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন বাবরি মসজিদ বানাতে চাওয়া সেই হুমায়ুন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ এএম
হুমায়ুন কবির। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) আবেগঘন বক্তব্যে তিনি জানান, দুর্গাপূজার পর বিধায়ক পদ থেকেও পদত্যাগ করবেন।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে ভোট গণনার আগেই পরাজয় মেনে নেন হুমায়ুন। ওই আসনে তার ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রার্থী হয়েছেন।
হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, রেজিনগরের বাসিন্দাদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। আরএসএসের কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের বিশেষ ব্যাজ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই ব্যাজ পরে ঘোরাফেরা করা ব্যক্তিরা ভোট লুট করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আবেগাপ্লুত হুমায়ুন বলেন, এই অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পারলে রাজনীতি করে বা বিধায়ক থেকে তার কী লাভ? ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দুর্গাপূজার পর তিনি মানুষের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষমা চাইবেন এবং রাজনৈতিক জীবন শেষ করবেন বলে জানান।
এ বছর ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই রাজনীতি ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন হুমায়ুন। তিনি বলেন, সুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী থাকা পর্যন্ত বিধানসভায় যাবেন না। এটিকে তিনি রাজনীতি থেকে ‘সন্ন্যাস’ নেওয়ার অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
হুমায়ুনের এই ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থি তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, হুমায়ুন কবির বিজেপির সুবিধা করতে চান, নাকি সত্যিকার অর্থে বিজেপির বিরোধিতা করতে চান—সেটি এখন তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ভোটের দিন পুলিশ হুমায়ুন কবিরকে আটক করেছিল। পরে সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভোট দেওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকটি বুথে পুলিশ ভোটপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। গত দুই মাসে ৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—দুই আসনেই জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন। রেজিনগরে তিনি ১ লাখ ২৩ হাজার ভোট পেয়ে বিজেপির বাপন ঘোষকে ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। দুটি আসনে জেতার পর রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। এরপর সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
হুমায়ুন কবির এর আগেও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করেছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিধায়ক পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। এরপর তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধের জেরে এজেইউপি গঠন করেন তিনি।
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল।

