থাই নারী ভারতে এসে জানলেন স্বামীর ঘরে তিন সন্তান, প্রতারণা নিয়ে চাঞ্চল্য
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
উত্তরপ্রদেশের কানপুরের এক ব্যক্তি এমন কাণ্ড করেন। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়। এরপর প্রেম। সেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। কিন্তু বিয়ের পরই সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি বলেছে, সেই অভিযোগের মূলে অর্থ আত্মসাৎ থেকে শুরু করে আছে আরও বড় অভিযোগ।
দেশটির উত্তরপ্রদেশের কানপুরের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ম পরিবর্তনে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন থাইল্যান্ডের এক নারী।
অভিযোগকারী ওই নারীর নাম আপসর্ন। থাইল্যান্ডে তিনি একটি রেস্তোরাঁ ও ক্যান্টিন পরিচালনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী ইরফানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের অনলাইন কথাবার্তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
আপসর্নের দাবি, ইরফান তাকে জানিয়েছিলেন তিনি অবিবাহিত। পরে তার সঙ্গে দেখা করতে থাইল্যান্ডে যান ইরফান। একপর্যায়ে তার বিশ্বাস অর্জন করে প্রায় দুই বছর আগে থাইল্যান্ডেই তাকে বিয়ে করেন।
তবে বিয়ের পর থেকেই ইরফান ব্যবসা ও বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনের কথা বলে তার কাছে টাকা চাইতে শুরু করেন বলে অভিযোগ আপসর্নের। তার দাবি, নিজের রেস্তোরাঁর আয় এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করা অর্থ মিলিয়ে ধাপে ধাপে স্বামীকে প্রায় ৬০ লাখ রুপি দেন তিনি।
অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর ইরফান তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ভারতে ফিরে আসেন।
কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভারতে আসেন আপসর্ন। গত ৬ অক্টোবর কানপুরে ইরফানের বাড়িতে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, ইরফান আসলে বিবাহিত। তার ১২ বছরের একটি দাম্পত্য সম্পর্ক রয়েছে এবং তিন সন্তানও আছে বলে অভিযোগ করেন আপসর্ন।
এরপর টাকা ফেরত চাইলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বলে অভিযোগ। আপসর্নের দাবি, ইরফান তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এমনকি তার সঙ্গে থাকতে বা টাকা ফেরত পেতে হলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং বোরকা পরার শর্ত দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পরে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই নারী। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পূর্ব) শিবা সিংয়ের কাছে তিনি পুরো ঘটনা জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, তার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক আইনে মামলা করা হয়েছে এবং ইরফানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে বিয়ের নথিপত্র, প্রায় ৬০ লাখ রুপি লেনদেনের তথ্য এবং ধর্ম পরিবর্তনে চাপ দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

