সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভ দিল্লিতে
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ করেছে বিরোধী জোট। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ (এসআইআর) কার্যক্রমের বিরোধিতা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিদিনই নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছেন বিরোধী নেতারা। তবে প্রতিবারই তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা বাসে করে রাজঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু রাজঘাটের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে। পরে কয়েকজন বিরোধী নেতা ও কর্মীকে আটক করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে এবং বুধবার যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিরোধী নেতারা। বুধবারের কর্মসূচিতেও রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ একাধিক সাংসদকে আটক করে পুলিশ।
বুধবারের বিক্ষোভে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন নারী সাংসদ রাস্তায় বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকারও খর্ব করা হচ্ছে। তবে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নিজেদের অবস্থানকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছে।
রাজঘাটে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার পরই সেখানে জমায়েত নিষিদ্ধ করে দিল্লি পুলিশ। মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থল ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ফলে রাজঘাটে পৌঁছাতে না পারলে আশপাশের এলাকাতেই অবস্থান কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বিরোধী নেতারা।
বিরোধী জোটের আন্দোলনের মূল দাবি দুটি—ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিশ্চিত করা। তাদের অভিযোগ, পুনর্নিরীক্ষণের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের দাবি, মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্যই তালিকা হালনাগাদের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে আন্দোলনের পরিধি রাজধানী দিল্লির বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। ককরোচ জনতা পার্টির উদ্যোগে ইতোমধ্যে মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে আয়োজিত কর্মসূচিতে অভিনেতা প্রকাশ রাজ, ভিডিও নির্মাতা ধ্রুব রাঠীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং পুনর্নিরীক্ষণ কার্যক্রম বাতিলের দাবি জানান।
আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। ওই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে নতুন করে। আগে থেকেই তিনি জেড-প্লাস নিরাপত্তা সুবিধা পেলেও বর্তমানে তার বাসভবন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২২১ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ২৩ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন নির্বাচন কমিশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। টানা তিন দিনের আন্দোলন, বারবার আটক, পুলিশি ব্যারিকেড, রাজঘাটে জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে বিরোধী জোট। সম্ভাব্য প্রতিনিধি দলে ১০ জন সদস্য থাকার কথা রয়েছে। সেই দলে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। আগামী ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী নেতাদের সম্ভাব্য বৈঠক আন্দোলনের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

-6ac794e87300b.jpg)