দিল্লিতে আন্দোলনে নতুন নেতৃত্বে আসা কে এই অজিঙ্ক শিন্ডে
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
অজিঙ্ক শিন্ডে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ তিন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। এর পর আন্দোলনের নেতৃত্বে এসেছেন দলটির জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তার জ্যেষ্ঠ সহকর্মী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়।
মুম্বাই থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে দিল্লিতে অবতরণের পর পুলিশ বিমানে ঢুকে তাদের আটক করে। পরে তিনজনকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাদের আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পর ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে জানান, তাকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়েছে। এখন থেকে অজিঙ্ক শিন্ডে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন বলেও জানান তিনি।
দীপকে আটক থাকা অবস্থায় ভিডিওটি প্রকাশ করা হলেও এটি আগে থেকে ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্র। এ বিষয়ে সিজেপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কে এই অজিঙ্ক শিন্ডে
মহারাষ্ট্রের আলিবাগের বাসিন্দা অজিঙ্ক শিন্ডে আগে আম আদমি পার্টির (আপ) কর্মী ছিলেন। ২০১৬ সালে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে দলটির হয়ে প্রচারে অংশ নেন তিনি। পরে মহারাষ্ট্রে আপের হয়ে কাজ করেন।
কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শিন্ডে পুনের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর চাকরি করেছেন। পরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে আপে যোগ দেন।
সিজেপি গঠনের পর থেকেই দলটির সঙ্গে যুক্ত শিন্ডে। চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দিল্লিতে হওয়া বিক্ষোভেও অংশ নেন তিনি। পরে দলের কেন্দ্রীয় কোর টিমের সদস্য হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন।
‘নতুন লড়াইয়ের শুরু’
এক ভিডিও বার্তায় অজিঙ্ক শিন্ডে অভিযোগ করেন, দিল্লি বিমানবন্দরেই সিজেপির তিন নেতাকে আটক করেছে ‘স্বৈরাচারী মোদি-শাহ সরকার’। তার দাবি, দেশের মানুষের ঐক্য দেখে আবারও ভয় পেয়েছে সরকার।
শিন্ডে বলেন, গত জুন-জুলাইয়ে যন্তর মন্তরে দেশজুড়ে মানুষ একত্র হয়ে মোদি-শাহ জুটির অহংকার চূর্ণ করেছিলেন। সেই সময় মানুষ যাতে আবার যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য ট্রেন বন্ধ করা হয়েছিল, বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিন্ডের ভাষ্য, সরকারের এই আতঙ্কই প্রমাণ করে যে আন্দোলনের অর্ধেক জয় ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এটি নতুন সংগ্রামের শুরু বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


