আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল: ধ্রুব রাঠি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার ও অধিকারকর্মী ধ্রুব রাঠি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার ও অধিকারকর্মী ধ্রুব রাঠি বলেছেন, তাকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি, বরং বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।
তার দাবি, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর টানা ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রোববার সকালে উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে নিজ বাড়ি থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন ধ্রুব রাঠি। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় ধ্রুব রাঠি বলেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে তার বাড়ির বাইরে ৫০ জনের বেশি লোক জড়ো হন। তার মা দরজা খুললে সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন তাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা সরাসরি তার শোবার ঘরে চলে যান।
তিনি বলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে কথা বলা বা কিছু করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি জুতা পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তার মা চিৎকার করছিলেন।
ধ্রুব রাঠির অভিযোগ, তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার নিজের ও তার বাবা-মায়ের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে এক থানা থেকে অন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ফোন ব্যবহার করতেও দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, তাকে বারবার বলা হচ্ছিল, এটি গ্রেফতার বা আটক নয়; তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ঘটনাকে অপহরণ ছাড়া আর কী বলা যায়।
ধ্রুব রাঠি জানান, তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাধারণ পোশাকে থাকা ব্যক্তিদের ধস্তাধস্তি হয়। ওই সময় বাড়িতে তিনি ও তার বাবা-মা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। নিজের হাতে জখমের দাগও দেখান ধ্রুব রাঠি।
ভারতের পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে একজন নাগরিকের বাড়িতে ঢুকে শোবার ঘর থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং তার পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো আইন ভাঙিনি; বরং সত্যের পক্ষে কথা বলেছি।’
নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করে ধ্রুব রাঠি বলেন, দেশে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা জরুরি অবস্থার সময় দেখা যেত; উত্তর কোরিয়ার মতো দেশেও এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।
